সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনে অস্ত্র পাঠিয়ে ভারতে নাশকতার ছক কষছে পাকিস্তানি ইনফ্লুয়েন্সার শাহজাদ

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনে অস্ত্র পাঠিয়ে ভারতে নাশকতার ছক কষছে পাকিস্তানি ইনফ্লুয়েন্সার শাহজাদ

ফের দেশের মাটিতে বড়সড় নাশকতার জাল বিস্তারের চেষ্টা রুখে দিল দিল্লি পুলিশ। দেশের পাঁচটি রাজ্য থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্যবসায়ী শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুনে থেকে গ্রেফতার হওয়া শার্পশুটার বিজয়কে জেরার পরই এই আন্তঃরাজ্য চক্রের হদিশ মেলে।

দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটির লক্ষ্য ছিল দিল্লির বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির, দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের পাশের একটি জনপ্রিয় খাবারের দোকান এবং হরিয়ানার একটি সামরিক ঘাঁটি। এই সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল তারা।

সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে নাশকতার জাল

তদন্তে জানা গেছে, পাকিস্তানি নাগরিক শাহজাদ ভাট্টি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘৩৩৩’ ব্যানারে ভিডিও পোস্ট করে নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে তিনি পাকিস্তান ও ইসলামের পক্ষে উগ্র উস্কানিমূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। ভারতের মাটিতে নাশকতা চালানোর জন্য তিনি সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে এপারে অস্ত্র সরবরাহ করতেন বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বর্তমানে ভারতের একাধিক তদন্তকারী সংস্থার আতশকাচের নীচে থাকা ভাট্টির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১৫টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও (এনআইএ) মামলা রুজু করেছে।

এই নেটওয়ার্কের গভীরতা এতটাই জোরালো যে, মহারাষ্ট্র এটিএস রাজ্যের অন্তত ৪০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ৫৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাট্টির অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন বা কমেন্ট করেছিলেন।

অপরাধের সূত্রপাত ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র

ভাট্টির অপরাধ জীবনের সূত্রপাত ২০১৩ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে চুরি ও ডাকাতির মামলার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০১৫ সালে ব্যবসার আড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ঘাঁটি গাড়েন ভাট্টি। বর্তমানে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা না গেলেও, তিনি পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াত করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই চক্রের পর্দাফাঁস হওয়ার পর স্পষ্ট যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মগজ ধোলাইয়ের মতো আধুনিক কৌশল ব্যবহার করছে ওপার বর্ডার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের এই যৌথ নেটওয়ার্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *