সোনারপুর হামলার জল গড়াচ্ছে আদালতে, স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন অভিষেক!

সোনারপুর হামলার জল গড়াচ্ছে আদালতে, স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন অভিষেক!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে হামলার শিকার হওয়ার পর এবার আইনি ও সংসদীয় পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের ওই ঘটনার পর তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি আদালতেরও শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ইট, পাথর ও ডিমের হামলার মুখে পড়েন অভিষেক। হামলায় তাঁর চোখে চোট লাগে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আকাশ গায়েন, কাজল দাসসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও জাতীয় রাজনীতির সংযোগ

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই হামলা আসলে “বিজেপি-sponsored” এবং রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা। একই সঙ্গে তিনি পুলিশি নিরাপত্তা ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তুলেছেন। এই ঘটনার পর তাঁর প্রতি উদ্বেগ ও সমর্থন প্রকাশের জন্য কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিষেক। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সওয়াল করার পরও আজ তিনি নিজেই রাজনৈতিক হিংসার শিকার। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শাসক দলের নীতির বিরোধিতা করলেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিশানা করা হচ্ছে এবং কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।

বিজেপির পাল্টা জনরোষের তত্ত্ব

হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেও এর পেছনে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে দায়ী করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই এবং এই হামলা কাম্য নয়। তবে তাঁর যুক্তি, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের শাসনে মানুষ যে হয়রানির শিকার হয়েছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানেও মন্তব্য করেছেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রতি জনতার ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশের অধিকার রয়েছে। রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পর তৃণমূলের আসন সংখ্যা ৮০-তে নেমে আসার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *