হাত-ফেরানো জয়ের পুরস্কার, এবার স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে শুভেন্দু মন্ত্রিসভায় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ শারদ্বত!

হাত-ফেরানো জয়ের পুরস্কার, এবার স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে শুভেন্দু মন্ত্রিসভায় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ শারদ্বত!

প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে নেমেই তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। নির্বাচনের প্রচারে হাতে আস্ত কাতলা মাছ নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট চেয়ে নজর কেড়েছিলেন বিজেপির ডঃ শারদ্বত মুখার্জি। এবার সেই প্রবীণ বিজেপি বিধায়ক ও স্বনামধন্য ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাঁধেই পশ্চিমবঙ্গের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দায়িত্ব অর্পণ করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার। ৩৫ মন্ত্রীর শপথ গ্রহণের এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে ডঃ শারদ্বত মুখার্জির অন্তর্ভুক্তি এক অন্যতম বড় চমক।

চিকিৎসাশাস্ত্র থেকে রাজনীতির অলিন্দে

ডঃ শারদ্বত মুখার্জি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সুদীর্ঘ। ১৯৯২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অফ মেডিসিন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে অনকোলজিতে ডিএম ডিগ্রি অর্জন করে কলকাতার মনিপাল হাসপাতাল এবং চিত্তরঞ্জন জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের মতো নামী প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক ও চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগদানের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বিজেপির সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ ঘটে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলানোর লক্ষ্য

রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের আমলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরাবস্থা, অব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের আন্দোলন নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন ডঃ মুখার্জি। অনশন থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলনে তিনি বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। শুভেন্দু সরকার ক্ষমতায় আসার পরই চিকিৎসক বিধায়কদের নিয়ে যে বিশেষ বৈঠক হয়েছিল, সেখানেই ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ এবং ডঃ শারদ্বত মুখার্জিকে রাজ্যের হাসপাতালগুলো পরিদর্শনের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সরকারি চিকিৎসার বেহাল দশা এবং রেফার রোগ। একজন উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ অনকোলজিস্টকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে এসে শুভেন্দু সরকার মূলত স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের বার্তা দিতে চাইছে। প্রশাসনিক স্তরে চিকিৎসকদের ক্ষোভ প্রশমন করা এবং ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধির চিকিৎসার পরিকাঠামো জেলা স্তরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডঃ মুখার্জির এই অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *