কলম ছেড়ে ক্ষমতার অলিন্দে, শুভেন্দুর নতুন মন্ত্রিসভায় বীরভূমের বাজিমাত জগন্নাথের

কলম ছেড়ে ক্ষমতার অলিন্দে, শুভেন্দুর নতুন মন্ত্রিসভায় বীরভূমের বাজিমাত জগন্নাথের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভার মহা-সম্প্রসারণে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বীরভূমের সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সাধারণ শাখা থেকে শুরু করে মার্কিন মুলুকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ, কিংবা দুঁদে সাংবাদিকতা থেকে ফুলটাইম রাজনীতির অলিন্দ—জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই জার্নি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সিউড়িতে পদ্ম ফুটিয়ে আজ তিনি নবান্নের প্রশাসনিক শীর্ষাসনে জায়গা করে নিয়েছেন।

সঙ্ঘের পাঠশালা থেকে সাংবাদিকতার আঙিনা

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল একদম ছোটবেলায়, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শাখার মাধ্যমে। উচ্চশিক্ষার জন্য যখন তিনি কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে পা রাখেন, তখন থেকেই সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং কলেজের তৎকালীন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন। বিজ্ঞানের স্নাতক জগন্নাথ এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর (Mass Communication) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ আমেরিকার একটি খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফেলোশিপ পান এবং বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার উচ্চতর পাঠ নেন।

উচ্চশিক্ষা শেষ করে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতাকে। সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘স্বস্তিকা’-য় হাতেখড়ির পর দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রথম সারির মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে পরবর্তীতে নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নামার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তে তাঁর পরিবার ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়ায়। মূলত বাবার আসামাপ্ত লড়াই ও আদর্শকে কাঁধে তুলে নিয়েই বীরভূমের সংগঠন গোছানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

সিউড়ি জয় ও শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্তি

রাজনীতির ময়দানে পা রেখে খুব দ্রুতই নিজের বাগ্মিতা, মেধা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জোরে রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে উঠে আসেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। গত নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের চেনা জমি সিউড়ি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পৌঁছান তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমের মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল জেলা থেকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত, সঙ্ঘের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা নেতাকে ক্যাবিনেটে আনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল। একদিকে জেলার সাংগঠনিক রাশ শক্ত করা, অন্যদিকে প্রশাসনে স্বচ্ছ ও শিক্ষিত ভাবমূর্তি তুলে ধরাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। সাংবাদিকতার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ আর সঙ্ঘের কঠোর অনুশাসনকে পাথেয় করে এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় রাজ্য তথা বীরভূমের উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *