আবাসের কোটি টাকার কাটমানি কেলেঙ্কারিতে উত্তাল গোপালনগর, গণধোলাইয়ের শিকার তৃণমূল নেতার সঙ্গী!

সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি টাকার কাটমানি আদায়ের অভিযোগে রণক্ষেত্রের রূপ নিল বনগাঁর গোপালনগর এলাকা। ঘর না পেয়ে এবং কষ্টের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সোমবার বিরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান দিব্যেন্দু বিশ্বাসের বাড়ির সামনে আছড়ে পড়ে স্থানীয় মহিলাদের তীব্র বিক্ষোভ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়, যার জেরে উপপ্রধানের এক সঙ্গীকে গণধোলাই দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহকুমাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আবাসের নামে কোটি টাকার প্রতারণা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালনগর থানার বিরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান দিব্যেন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কাটমানি ও তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামের গরিব মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। উপপ্রধান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা ঘর দেওয়ার নাম করে কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছিলেন। টাকা না দিলে ঘর মিলবে না বলে সরাসরি হুমকিও দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীদের দাবি, এলাকার প্রায় ১৯৩টি পরিবারের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার নাম করে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতৃত্ব।
টাকা ফেরতের দাবিতে গণবিক্ষোভ
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও বাড়ি না মেলায় এবং সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বঞ্চিত বাসিন্দারা। সোমবার সকালে এলাকার মহিলারা একজোট হয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে অভিযুক্ত উপপ্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপপ্রধান দিব্যেন্দু বিশ্বাস আগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। তবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সঙ্গী গ্রামবাসীদের পাল্টা হুমকি ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত মহিলারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই তৃণমূল কর্মীকে ধরে গণধোলাই দেয়।
খবর পেয়ে গোপালনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গণপিটুনির শিকার হওয়া ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালনগরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল জমানায় গরিব মানুষের ওপর এই ধরণের অনাচার ও তোলাবাজি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাটমানি সিন্ডিকেটের কারণেই প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত এই গণবিক্ষোভ আগামী দিনে গ্রামীণ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।