রোগা শরীরে নেয়াপাতি ভুঁড়ি, খাদ্যাভ্যাস নয় বরং নেপথ্যে রয়েছে পূর্বপুরুষের জিন

রোগা শরীরে নেয়াপাতি ভুঁড়ি, খাদ্যাভ্যাস নয় বরং নেপথ্যে রয়েছে পূর্বপুরুষের জিন

চেহারা একেবারেই স্থূল নয়, হাত-পা তুলনামূলকভাবে সরু, অথচ পেটের কাছে ফেঁপে উঠেছে গোলগাল ভুঁড়ি। বাঙালি মধ্যবয়সি পুরুষদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিচিত এই ‘নেয়াপাতি’ ভুঁড়িকে অনেকেই চল্লিশ পেরোনোর স্বাভাবিক লক্ষণ বা সাময়িক গ্যাসের সমস্যা বলে উড়িয়ে দেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই ভুঁড়ি মোটেই হেলাফেলা করার মতো বিষয় নয়। সবটাই যে কেবল অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য হয়, তা-ও নয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এর নেপথ্যে রয়েছে বংশগত কারণ ও বিপাকীয় সমস্যা।

পাবমেড-এ প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘মেটাবলিক ডিজ়অর্ডার’ বা বিপাকীয় সমস্যা বলা হয়। পেটের ঠিক মাঝখানে ধীরে ধীরে জমে ওঠা এই স্থায়ী চর্বির স্তরকে বলা হয় ‘ভিসেরাল ফ্যাট’। গবেষকদের মতে, এই চর্বিই মানব শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।

ভুঁড়ির নেপথ্যে দায়ী জিন

গবেষণা বলছে, দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় ও বাঙালি পুরুষদের পেটে এই ধরনের চর্বি জমার প্রবণতা জিনগত। বংশ পরম্পরায় পূর্বপুরুষের জিন পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে স্থানান্তরিত হওয়ার ফলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির ‘বডি-মাস-ইনডেক্স’ (বিএমআই) অর্থাৎ উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাত ঠিক থাকলেও পেটে মেদ জমে। গবেষকেরা এই মেদ জমার জন্য মূলত ‘এ৫৫টি’ এবং ‘কে১৫৩আর’ নামক দুটি জিনকে দায়ী করেছেন।

ভিসেরাল ফ্যাটের মারাত্মক প্রভাব

এই ধরনের চর্বি কেবল চামড়ার নীচে জমে থাকে না, বরং তা হার্ট, লিভার, অন্ত্র ও পাকস্থলীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশেও জমতে থাকে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে বাইরে থেকে শরীর মোটা না দেখালেও, শরীরের ভিতরের অঙ্গগুলিতে মেদ জমার কারণে পরবর্তীতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এর প্রভাবে হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার, পাকস্থলীর জটিল অসুখ এবং টাইপ-২ ডায়াবিটিসের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

জিনগত কারণের পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাত্রার নেতিবাচক প্রভাবও এর জন্য সমানভাবে দায়ী। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রমের অভাব এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করার অভ্যাসের কারণে পেটের মধ্যিখানে এই ক্ষতিকর মেদ জমতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এই নেয়াপাতি ভুঁড়ি কমানো সহজ নয়। তবে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, যোগাসন, পিলাটেজ় এবং পেটের বিশেষ কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়ামের মাধ্যমে এই ভিসেরাল ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *