এবার পুজোয় কলকাতায় মোদি, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে বিশ্বজনীন করতে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি!

এবার পুজোয় কলকাতায় মোদি, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে বিশ্বজনীন করতে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি!

শরতের নীল আকাশ আর শিউলি ফুলের গন্ধের মাঝেই এবার কলকাতার দুর্গাপুজোয় যোগ হতে চলেছে এক ভিন্ন মাত্রা। ২০২৫ সালে দিল্লির বাঙালি পাড়ার পুজোয় অংশ নেওয়ার পর, ২০২৬-এর পুজোয় দুর্গাপুজোর খাস ‘মক্কা’ কলকাতায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তিনি একাই নন, তাঁর সঙ্গে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ বিজেপির একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব। বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য এখন বাঙালির আবেগকে ছুঁয়ে দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা।

ষষ্ঠী-সপ্তমীতে কলকাতায় মোদি

দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, উৎসবের কলকাতায় এবার ষষ্ঠী ও সপ্তমী কাটাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার কোনো বড় পুজোয় তাঁকে অঞ্জলি দিতেও দেখা যেতে পারে। তবে পুজোকে বিশ্বজনীন করার এই পরিকল্পনায় উৎসবের মূল ধারায় কোনো বদল হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিপূর্বেও উত্তর কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোর উদ্বোধনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুজো কর্তাদের একাংশের মতে, তাঁরাও চান বাংলার এই উৎসব আক্ষরিক অর্থেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অনন্য মর্যাদা পাক।

বিশ্বায়নের লক্ষ্যে নয়া রূপরেখা

ইউনেসকো ইতিমধ্যেই বাঙালির চিরন্তন এই উৎসবকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’ তকমা দিয়েছে। এবার সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক স্তরে বড়সড় বিপণনের পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। জানা গিয়েছে, পুজোর বিশ্বায়নের ভাবনার রূপরেখা তৈরির কাজে যুক্ত করা হতে পারে ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’ সংগঠনকে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় এই শাখা সংগঠনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রনেতাদের পুজো উপলক্ষে বাংলায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর ও বিশ্বায়নের এই উদ্যোগের ফলে কলকাতার দুর্গাপুজো পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *