চলতি মাসেই বকেয়া ডিএ নিয়ে মিলতে পারে বড় স্বস্তি, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর আশাবাদী সরকারি কর্মীরা

চলতি মাসেই বকেয়া ডিএ নিয়ে মিলতে পারে বড় স্বস্তি, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর আশাবাদী সরকারি কর্মীরা

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সমস্যার বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে চাইছে নতুন সরকার। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কর্মচারী সংগঠনগুলির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে বকেয়া ডিএ, নতুন পে কমিশন গঠন এবং শূন্যপদে নিয়োগের মতো একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদর্থক আলোচনা হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমল থেকে ঝুলে থাকা এই জটিল আইনি ও আর্থিক সমস্যার জট কাটাতে বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আইনি জটিলতা ও সরকারের সদর্থক অবস্থান

কেন্দ্রের হারে ডিএ প্রদানের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় কর্মচারী সংগঠনগুলি জয়লাভ করলেও পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বকেয়া মেটায়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি ভাস্কর ঘোষ জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে সরকার দায়বদ্ধ। রাজ্য সরকার কর্মীদের প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দিয়ে সুহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ডিএ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে এবং হিসাবের গরমিল দূর করতে বিষয়টি ‘ইন্দু মলহোত্রা কমিটি’-র কাছে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি গ্রান্ট-ইন-এডের আওতাধীন কর্মী ও পেনশনারদের সমস্যার বিষয়েও সরকার দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।

বাজেট অধিবেশনে বড় ঘোষণার সম্ভাবনা ও দূরগামী প্রভাব

কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, আগামী ২২ জুন বাজেট অধিবেশনেই বকেয়া ডিএ পরিশোধের বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ও বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া কলকাতার যেসকল পেনশনারদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ৫০০ সরকারি কর্মীর অ্যাকাউন্টে লক হয়ে থাকা টাকা আগামী আর্থিক বছর থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। সরকারের এই ইতিবাচক মনোভাবের ফলে একদিকে যেমন রাজ্য ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা ও ক্ষোভের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রেও গতি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সাথে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে নতুন নিয়োগের যে ইঙ্গিত মিলেছে, তা রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *