সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলা, ‘কর্মের ফল’ বলে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ বিজেপি বিধায়ক রত্নার

সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলা, ‘কর্মের ফল’ বলে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ বিজেপি বিধায়ক রত্নার

সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ও ডিম ছোঁড়ার পাশাপাশি জামা ছিঁড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই হাইপ্রোফাইল হামলার ঘটনাকে ‘স্বতস্ফূর্ত জনরোষ’ এবং ‘কর্মের ফল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আরজি কর নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

রাজনৈতিক তরজা ও সুর চড়ানো আক্রমণ

এই ঘটনার পর শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চরম আকার ধারণ করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নতুন সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অভিষেকের নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, এটি আসলে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের বিরুদ্ধে তাঁর সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

ঘটনার কারণ ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের মূলে রয়েছে রাজ্যে সাম্প্রতিক ক্ষমতা বদল এবং আরজি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ। নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তৃণমূল কংগ্রেস যখন ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে জনসংযোগ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, তখন বিরোধী শিবির একে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও তিক্ততা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এমন সরাসরি হামলা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *