শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার মেগা সম্প্রসারণ, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মন্ত্রীদের বিশেষ বার্তা অমিত শাহর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে সম্পন্ন হলো রাজ্য মন্ত্রিসভার মেগা সম্প্রসারণ। সোমবার লোকসভায় নতুন করে শপথ নিলেন রাজ্যের ৩৫ জন মন্ত্রী। এর মধ্যে ১৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের এই শপথ গ্রহণের পরই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বতন টুইটার) শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্য জুড়ে নতুন এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে উন্নয়ন ও সুশাসনের এক নতুন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অমিত শাহর বার্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নতুন মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকনির্দেশনা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই ডাবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে নিয়োজিত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন মন্ত্রিসভার সকল সদস্য পশ্চিমবঙ্গের সুশাসন এবং জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের ওপর কতটা আস্থা রাখছে এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কাজে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল মন্ত্রিসভা, লক্ষ্য সুশাসন
গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ মোট ৬ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। সোমবারের মেগা সম্প্রসারণের পর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ৪১। এদিনের নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের সবকটি জেলার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। তাপস রায়, অর্জুন সিংহ, স্বপন দাশগুপ্ত এবং শঙ্কর ঘোষের মতো অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতাদের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুব ও নতুন মুখদের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে।
তবে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের কাকে কোন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি। খুব দ্রুতই দফতরের তালিকা চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ফলে রাজ্যে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।