কলকাতা থেকে বাসে শিলিগুড়ি যাওয়ার চেনা রুট বদল, ভোগান্তি কমাতে ট্রাফিক পুলিশের কড়া দাওয়াই

কলকাতা থেকে বাসে শিলিগুড়ি যাওয়ার চেনা রুট বদল, ভোগান্তি কমাতে ট্রাফিক পুলিশের কড়া দাওয়াই

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি শহরের দীর্ঘদিনের প্রধান মাথাব্যথার কারণ তীব্র যানজট। বিশেষ করে জংশন এবং হিলকার্ট রোড এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই ট্রাফিকের চেনা নরকগুলজার রূপ সামনে আসত। এই চেনা ভোগান্তি থেকে শহরবাসী ও নিত্যযাত্রীদের মুক্তি দিতে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় পদক্ষেপ নিল শিলিগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ। কলকাতা, পাটনা, রাঁচি কিংবা আসামগামী একাধিক দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাসের যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে জারি করা হয়েছে নতুন কড়া নির্দেশিকা।

দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, বিকেল গড়াতেই হিলকার্ট রোড ও জংশন মোড় সংলগ্ন প্রধান রাস্তার ওপর সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত দূরপাল্লার বেসরকারি বাসগুলো। রাস্তার একটি বড় অংশ জুড়ে বেআইনিভাবে এই যাত্রী ওঠানামার খেসারত দিতে হতো সাধারণ মানুষকে, যার ফলে তৈরি হতো মাইলের পর মাইল তীব্র যানজট। অবশেষে সেই ট্রাফিক জটলা কাটানোর স্থায়ী সমাধান খুঁজতে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে যান ডিসিপি ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ট্রাফিক পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিদর্শন শেষে ট্রাফিক পুলিশের তরফে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আনবে।

টার্মিনাসের ভেতরে বোর্ডিং এবং শহরের বাইরে ড্রপিং পয়েন্ট

নতুন नियम অনুযায়ী, বিকেল পাঁচটার পর কলকাতা, পাটনা, রাঁচি ও আসামসহ বিভিন্ন রুটের সমস্ত দূরপাল্লার বাসকে বাধ্যতামূলকভাবে তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসের ভেতর থেকেই ছাড়তে হবে। টার্মিনাসের যে অংশটি সন্ধ্যার পর মূলত ফাঁকা থাকে, সেই জায়গাটিকেই এবার দূরপাল্লার বাসের বোর্ডিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ফলে রাস্তার ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না।

শুধু যাত্রী তোলাই নয়, দূরপাল্লার বাসের ড্রপিং পয়েন্ট বা যাত্রী নামানোর নিয়মেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। ট্রাফিক পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সকাল ৯টার পর আর কোনো দূরপাল্লার বাস যাত্রী নামানোর ছুতোয় শিলিগুড়ি শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ওই সমস্ত বাসকে এবার থেকে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে সরাসরি শহরের বাইরে মাটিগাড়ার পরিবহন নগরে গিয়েই যাত্রী নামাতে হবে।

যানজট মুক্তি ও সুশৃঙ্খল যাতায়াতের সম্ভাবনা

শিলিগুড়ি শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর থেকে বেসরকারি দূরপাল্লার বাসের এই অনিয়ন্ত্রিত চাপ কমে যাওয়ায় জংশন ও হিলকার্ট রোড এলাকায় যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিকেল এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও মসৃণ ও সহজ করাই এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সাথে শহরের অভ্যন্তরীণ ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল রূপ পাবে।

ট্রাফিক পুলিশের এই কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসা পর্যটক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন নিয়মের ফলে পাহাড়ে আসা-যাওয়া করা পর্যটকদের সময় বাঁচবে এবং যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে। পুলিশের এই নতুন প্রশাসনিক দাওয়াইতে জংশনের চেনা জট স্থায়ীভাবে কতটা কাটে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *