বিষ্ণুপুর ও সোনারপুরের রাজনৈতিক উত্তাপের পর এবার সিআইডির নজরে কালীঘাট, রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা

বিষ্ণুপুর ও সোনারপুরের রাজনৈতিক উত্তাপের পর এবার সিআইডির নজরে কালীঘাট, রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা

বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় সোমবার রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে সিআইডি-র তলব এড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে তৈরি হলো টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আগামী ৮ জুন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ভবানীভবনে হাজিরার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল সিআইডি। গত শনিবার সোনারপুরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে কালীঘাটের বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এদিন বেলা ১২টায় সিআইডি সদর দফতরে তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। সশরীরে হাজিরা না দিয়ে সকালে সিআইডি-কে একটি চিঠি পাঠান সাংসদের প্রতিনিধিরা।

কালীঘাটে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নতুন নোটিস

অভিষেকের চিঠি মিললেও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। সরাসরি তৃণমূল নেতার অন্দরে পৌঁছে যাওয়ার কৌশল নেয় সিআইডি। বিকেলে সিআইডি-র একটি বিশেষ দল আচমকাই হাজির হয় কালীঘাট রোডে অভিষেকের হাই-সিকিউরিটি বাড়ির দোরগোড়ায়। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তদন্তকারীরা বাইরেই অপেক্ষা করেন। অবশেষে ভিতর থেকে প্রতিনিধি এসে সিআইডি-র আনা নতুন নোটিসটি নিয়ে ভিতরে যান এবং অভিষেক নিজেই নোটিসটি সই করে রিসিভ করেন। নতুন নোটিসে আগামী ৮ জুন ঠিক বেলা ১২টায় ফের তাঁকে ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি চাপ

এই ঘটনার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে এভাবে সিআইডি নোটিস পাঠানো এবং বাড়ির দোরগোড়ায় গোয়েন্দাদের পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আগামী ৮ জুনের ডেডলাইন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বজায় রাখল, যার প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *