আসামে এবার এনকাউন্টার, প্রকাশ্যে ভাই-বোনকে কোপানো সেই অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে খতম!

অসমে এবার এনকাউন্টার, প্রকাশ্যে ভাই-বোনকে কোপানো সেই অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে খতম!

আসামের নলবাড়ি হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় মোড়। প্রকাশ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে এক তরুণকে কুপিয়ে খুন এবং তাঁর নাবালিকা বোনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রোজ় আলির মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশি হেফাজত থেকে পালাতে গিয়েই এনকাউন্টারে তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

অস্ত্র উদ্ধারে গিয়েই বিপত্তি ও এনকাউন্টার

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই তৎপরতা বাড়িয়ে মূল অভিযুক্ত রোজ় আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার রাতে হামলার সময় ব্যবহৃত মূল অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য অভিযুক্তকে সাথে নিয়ে গাংপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানে বের হয় মুকালমুয়া থানার পুলিশ। অভিযোগ, নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর অস্ত্রটি দেখানোর অছিলায় আচমকাই পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন রোজ়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তকে থামাতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

নিহত ১৯ বছর বয়সি তরুণ মধুরজ্য বর্মণ নলবাড়ি আঞ্চলিক ছাত্র সংসদের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মধুরজ্যের ১৭ বছর বয়সি খুড়তুতো বোনের সাথে জোরপূর্বক প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত রোজ় আলি। এই নিয়ে পারিবারিক টানাপড়েন ও বিরোধের জেরে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের ওপর অতর্কিতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।

এই ঘটনার পর আসামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাটি একদিকে যেমন ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করতে পারে, অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে এটি একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা পুরোনো শত্রুতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *