মার্কিন সেনার চোখে ধুলো! হরমুজ প্রণালীতে ভেসে উঠল ইরানের গোপন ‘বারুদি মাইন’

মার্কিন সেনার চোখে ধুলো দিয়ে হরমুজে ভাসছে ইরানের বারুদি মাইন! বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা সামুদ্রিক বারুদি মাইনের ছবি প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক উপস্থিতিকে উপেক্ষা করে কীভাবে এই মারণাস্ত্র সমুদ্রের বুকে রয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নৌসেনা দাবি করে আসছিল যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুদ্ধ করতে ইরান গোপনে জলসীমায় মাইন বিছিয়ে রাখছে, যা এখন কার্যত প্রমাণিত বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইনে বড় আতঙ্ক
পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর একটি বিশাল অংশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকায় সামান্যতম সামরিক অস্থিরতা বা বারুদি মাইনের উপস্থিতি বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের আগুন লাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। পেন্টাগন এর আগে বেশ কয়েকটি ইরানি নৌকাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল এই মাইন্স বিছানোর অভিযোগে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়কে কার্যত অকার্যকর করেই এই বিস্ফোরকগুলো মোতায়েন করা সম্ভব হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ছবি সামনে আসতেই হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার করলেও, এই ঘটনার পর মার্কিন বাহিনীর গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি এই বারুদি মাইনের উপস্থিতি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও, মাঠ পর্যায়ের এই নতুন ঘটনা ফের মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও ইউরোপীয় দেশগুলো এই ছবির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।