দিল্লির রাজপথে নামছেন ‘ককরোচ’ দলের প্রতিষ্ঠাতা, আগামী ৬ জুন ভারতে ফিরছেন অভিজিৎ দীপকে

দিল্লির রাজপথে নামছেন ‘ককরোচ’ দলের প্রতিষ্ঠাতা, আগামী ৬ জুন ভারতে ফিরছেন অভিজিৎ দীপকে

নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে এবার সরাসরি ভারতের রাজপথে নামছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আগামী ৬ জুন বস্টন-ভিত্তিক এই ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ দেশে ফিরছেন। দিল্লির যন্তরমন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সম্প্রতি দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে উদ্দেশ্য করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর গত ১৬ মে এই ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা সিজেপি-র আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা অত্যন্ত দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

আন্দোলনের কারণ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

অনলাইন দুনিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। নিট, সিবিএসই এবং সিউইটি-র মতো জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় একের পর এক বিভ্রান্তির জেরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই একটি অনলাইন পিটিশনে আট লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেছেন। লখনউ, জয়পুর ও মহারাষ্ট্রসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। অভিজিৎ দীপকের মতে, এত বড় বিপর্যয়ের পরেও যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করেন, তবে তা দেশের জবাবদিহিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে।

গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আমেরিকায় একাধিক আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই প্রযুক্তিবিদ। আগামী ৬ জুন দিল্লিতে পৌঁছে যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইবেন তিনি। গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকলেও সম্পূর্ণ অহিংস ও সাংবিধানিক উপায়ে এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অভিজিৎ।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রবাসী সফল প্রযুক্তিবিদের সরাসরি ভারতের মাটিতে এসে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত চলমান নিট আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয় ‘ককরোচ’ দলের এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সংগঠিত করবে, যা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *