স্কুল ফি দিতে না পারায় মানসিক হেনস্থা, অমৃতসরে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

স্কুল ফি দিতে না পারায় মানসিক হেনস্থা, অমৃতসরে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

পাঞ্জাবের অমৃতসরে স্কুল ফি বাকি থাকায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার অমানবিক রূপটিকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। মাত্র ২০ হাজার টাকা বকেয়া থাকার জেরে ১৭ বছর বয়সী আমজোত কৌরকে স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ২২ মে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং ২৩ মে রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় রেকর্ড করা ছাত্রীর একটি শেষ ভিডিয়ো বার্তা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বকেয়া ফি ও মানসিক নির্যাতন

জানা গিয়েছে, আর্থিক অনটনের কারণে আমজোতের স্কুলের প্রায় ২০ হাজার টাকা ফি বাকি ছিল। তার পরিবারের অভিযোগ, পরিবারের দুর্বল আর্থিক পরিস্থিতির কথা জানা সত্ত্বেও স্কুলের কর্মীরা বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য ওই কিশোরীর উপর অনবরত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন। মৃত্যুর আগে দেওয়া ভিডিয়ো বিবৃতিতে আমজোত জানায়, গত ১১ মে তাকে স্কুলে ডেকে একটি আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন করেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরেই সে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় এবং প্রশাসনের কাছে নিজের মৃত্যুর বিচার দাবি করে।

তদন্ত ও প্রশাসনের তৎপরতা

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ। অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লার এবং সদর থানার এসএইচও (SHO) কিরণদীপ সিং জানিয়েছেন, ঘটনার মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বিশেষ দল গঠন করে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বাইন্স এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে বাড়তে থাকা মানসিক চাপ

এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা বাতিল হওয়ার কারণে আরও এক ছাত্রীর আত্মহত্যার খবর মিলেছে। একের পর এক এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে, বর্তমান সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক চাপ এবং মানসিক হেনস্থা ছাত্রছাত্রীদের কতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সংবেদনশীলতার অভাব এবং কঠোর বাণিজ্যিক মনোভাব যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আগামী দিনেও এমন বহু প্রতিভার অকালমৃত্যু রোখা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *