বক্স অফিসে ঝড় তোলা ‘ধুরন্ধর-২’ দেখে ক্ষেপে লাল দাউদ গ্যাং, মুম্বইতে বাড়ছে নাশকতার আশঙ্কা

বলিউডের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর-২: রিভেঞ্জ’ সিনেমাটি বক্স অফিসে তুমুল সাফল্য পেলেও, তা ঘুম উড়িয়েছে গোয়েন্দাদের। এই সিনেমায় ‘বড়সাহেব’ নামক একটি খলচরিত্রের উপস্থিতি এবং তাঁর সংলাপ বলার ধরন পাকিস্তানের মাটিতে লুকিয়ে থাকা মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় তীব্র অসন্তুষ্ট হয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সিনেমাটিতে দাউদ গ্যাংয়ের কার্যকলাপের এমন চিত্রায়নে ক্ষিপ্ত হয়ে বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে নতুন করে নিজেদের সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে ডি-কো ম্পা নি।
আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি বক্স অফিসে ১৪০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করার পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই প্রতিক্রিয়াকে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, মুম্বইতে নিজেদের অস্তিত্ব ও শক্তি প্রমাণ করতেই দাউদ বাহিনী গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করার এই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
নেপথ্যে পাক মদত ও ডি-কো ম্পা নির নতুন ছক
১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, অস্ত্র চোরাচালান এবং জাল নোট চক্রের মূল হোতা দাউদ ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে করাচিতে অবস্থান করছেন বলে ভারতের দাবি। যদিও পাকিস্তান বরাবরই এই তথ্য অস্বীকার করে আসছে, তবে ভারতের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ২০২০ সালে পাকিস্তান সরকার করাচিতে দাউদের ঠিকানার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ভারতীয় গোয়েন্দাদের অভিযোগ, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ নিরাপত্তায় থেকে দাউদ গ্যাং এখনো ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
সাম্প্রতিক ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট অনুযায়ী, দাউদের শারীরিক অসুস্থতার খবর ছড়ালেও তাঁর গ্যাংয়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শাকিল শেখ ওরফে ছোটা শাকিল পাকিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে নেটওয়ার্ক সচল রাখছেন। পাশাপাশি দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম, জাভেদ চিকনা এবং টাইগার মেমনের মতো কুখ্যাত অপরাধীরা এই মুহূর্তে ভারতের মাটিতে বড়সড় নাশকতার ছক কষছে।
মুম্বইয়ে রিক্রুটমেন্ট ও সম্ভাব্য প্রভাব
গোয়েন্দা রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডকে নতুন করে চাঙ্গা করতে ডি-কো ম্পা নি পর্দার আড়ালে সদস্য সংগ্রহ বা রিক্রুটমেন্টের কাজ শুরু করেছে। নতুনভাবে এই নেটওয়ার্ক তৈরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দাউদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত শার্প শ্যুটার মুন্না ঝিঙ্গাদাকে।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই আচমকা নড়াচড়ার নেপথ্যে বড় কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা আর্থিক অপরাধের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই রিপোর্টের ভিত্তিতে হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে, যাতে ৯০-এর দশকের মতো কোনো বিশৃঙ্খলা বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য পুনরায় ফিরে আসতে না পারে।