তিশা শর্মা হত্যা মামলায় নয়া মোড়, সাক্ষীকে মারধর করে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা দুষ্কৃতীদের!

প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু মামলায় এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এল। মামলার অন্যতম এক প্রধান সাক্ষীকে মারধর করে আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ মে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই ব্যক্তি স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
আদালতে বাধা দিতেই কি এই হামলা?
অভিযোগকারী ব্যক্তি পেশায় একজন সেলুনকর্মী, যার দোকান অভিযুক্ত সমর্থের বাড়ির কাছাকাছি। তাঁর দাবি, ৩০ মে আচমকাই চার-পাঁচজনের একটি সশস্ত্র দল তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপর তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করার পাশাপাশি স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়, তিনি যেন আদালতে তিশা হত্যা মামলায় কোনোভাবেই সাক্ষ্য দিতে না যান। আক্রান্ত সাক্ষীর অনুমান, হামলাকারীরা অন্য কেউ নয়, বরং মূল অভিযুক্ত সমর্থের বন্ধু-বান্ধব। এই ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তদন্তে পুলিশ ও মামলার ভবিষ্যৎ
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আক্রান্ত সাক্ষীকে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এই হামলার ঘটনা তিশা শর্মা হত্যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার মূল অভিযুক্ত, তিশার স্বামী সমর্থ ইতিমধ্যেই আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, তিশাকে মানসিক নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাক্ষীকে প্রভাবিত ও ভয় দেখানোর চেষ্টা এটাই ইঙ্গিত করে যে, সত্য আড়াল করার জন্য পর্দার আড়াল থেকে এখনো প্রভাবশালী কোনো চক্র কাজ করছে। এর ফলে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং বিচার পাওয়ার পথ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।