দেরিতে বর্ষা, কবে ভিজবে বাংলা? IMD-র সর্বশেষ পূর্বাভাস জানুন

অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে, কবে মিলবে বর্ষার দেখা?
রাজ্যের তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন বর্ষার আগমণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মৌসুমী বায়ুর গতিপথ ধীর হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতেই বর্ষা প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ভারতে বায়ুপ্রবাহের অনুকূল পরিস্থিতির অভাবে কেরালায় বর্ষার আগমণ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক বর্ষার সময়সূচীতে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির জন্য দেশবাসীকে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।
মৌসুমী বায়ুর বাধা ও প্রভাব
মৌসুমী বায়ু শক্তিশালী হওয়ার জন্য ঊর্ধ্বাকাশে যে নির্দিষ্ট বায়ুপ্রবাহের প্রয়োজন, তা বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমা বায়ুর গতি ব্যাহত হওয়ায় বর্ষার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য কেরালায় টানা বৃষ্টিপাত, নির্দিষ্ট গতির পশ্চিমা বায়ু এবং প্রয়োজনীয় মেঘের আচ্ছাদন—এই তিনটি শর্তের সমন্বয় প্রয়োজন, যা এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাবে এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা কৃষিকাজ ও জলাধারগুলোর মজুতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বৃষ্টির অপেক্ষায় বাংলা
কেরালায় বর্ষা প্রবেশের পরই তা ধাপে ধাপে বাংলার দিকে অগ্রসর হবে। তবে আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বড় বৃষ্টির দেখা নেই। আগামী কয়েকদিন কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় কেবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন রাজ্যের কৃষকরা। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকলেও, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা না বাড়া পর্যন্ত তীব্র গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।