তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, ৫০ বিধায়কের পৃথক বৈঠকের জল্পনা!

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, ৫০ বিধায়কের পৃথক বৈঠকের জল্পনা!

তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জন! মহারাষ্ট্রের ছায়ায় কি বড় কোনো বিদ্রোহের পথে শাসকদল?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলের অন্দরে সৃষ্ট তীব্র কোন্দল ও গৃহযুদ্ধের জেরে শাসকদলের ভাঙনের জল্পনা এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র ধাঁচে দল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন যে, মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও দল ভাঙার চেষ্টা চলছে। তবে এবারের সঙ্কট বাইরের কোনো শক্তির চেয়ে দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্বকেই বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিদ্রোহের মুখে শীর্ষ নেতৃত্ব

দলের একাংশ এখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহের পথে হাঁটছে। সম্প্রতি দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলের অন্দরেই গুরুতর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে এবং স্বাক্ষর জালের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শহরের বিভিন্ন হোটেল এবং বিধায়কদের বাসস্থানে গোপনে বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষের মতো নেতারা এই গোপন বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আলাদা শিবিরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেত্রীর ডাকা সাম্প্রতিক বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জনের উপস্থিতি এই ফাটলের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

আমরা-ওরা বিভাজন ও ভবিষ্যতের সমীকরণ

তৃণমূলের অন্দরে ‘কালীঘাট বনাম ক্যামাক স্ট্রিট’ এবং ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে এবারের সংকট অনেক বেশি প্রকট। বিক্ষুব্ধ বিধায়করা নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন এবং দলের বর্তমান হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিজেপির দিকে সরাসরি ঝুঁকে পড়ার রাস্তা আপাতত বন্ধ থাকায়, মহারাষ্ট্র মডেল অনুসরণ করে দলের নাম ও পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে একটি সমান্তরাল গোষ্ঠী তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। এই পরিস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে শুধু বিভাজনই তৈরি করেনি, বরং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *