দপ্তর বণ্টন জল্পনার মাঝেই শুভেন্দুর ঝটিকা দিল্লি সফর, বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

সোমবারই রাজভবনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তবে শপথগ্রহণ পর্ব মিটলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি তাঁদের দপ্তর বণ্টন। কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই আকস্মিক সফরে আজ, মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজধানীতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর এই হাইপ্রোফাইল বৈঠককে ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
কর্মসূচির ঠাসা সূচি ও দিল্লি যাত্রা
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির পরিধি ছিল বেশ বিস্তৃত। সকালে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি সরাসরি চলে যান তারকেশ্বরে। সেখানে বাবা তারকেশ্বরের চরণে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও সারেন তিনি। আগামী ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফরের কথা রয়েছে, যার একটি সম্ভাব্য সভাস্থল হতে পারে তারকেশ্বর। সেই সভাস্থল পরিদর্শন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেই মুখ্যমন্ত্রী সোজা কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দপ্তর বণ্টন ও মেগা বৈঠকের তাৎপর্য
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করে বিজেপি। এরপর ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং আরও পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নেন। সোমবার লোকভবনে নতুন করে আরও ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। এর মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং আরও ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হতে চলেছেন।
সোমবার বিকেলেই এই নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪০ সদস্যের এই বিশাল মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও থাকবে, তা চূড়ান্ত করতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই জরুরি বৈঠক। এর পাশাপাশি দিল্লিতে একটি বিশেষ এবং গোপন বৈঠকেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, যার এজেন্ডা এখনও সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং মন্ত্রীদের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক দপ্তর বন্টনের সমীকরণ মেলাতেই শুভেন্দুর এই ঝটিকা সফর, যা আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের প্রশাসনিক রূপরেখা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।