অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন শুরু, জটিল ফর্ম ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করলেন মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন শুরু, জটিল ফর্ম ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে অফলাইনের পর এবার শুরু হলো অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। গত ১ জুন থেকে রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত আবেদনকারীরা অনলাইনে এই সুবিধা পাবেন। তবে আবেদনের জন্য নির্ধারিত ১২ পাতার বিশদ ফর্ম এবং যান্ত্রিক কিছু সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে সাময়িক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে অভয় বাণী দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আবেদন প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি ও কঠোর নিয়মাবলী

অনলাইনে আবেদনের জন্য রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট ‘অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টাল’ থেকে বাংলাসহ তিনটি ভাষায় ফর্ম ডাউনলোড করা যাচ্ছে। পোর্টালে মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে লগ ইন করে আবেদনকারীদের ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। আবেদনের জন্য আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, বসবাসের প্রমাণপত্র এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি আবশ্যক করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বেশ কিছু কড়া নিয়ম আরোপ করেছে। কোনো অভারতীয় নাগরিক এই সুবিধা পাবেন না। এছাড়া আয়কর দাতা, সরকারি বা আধা-সরকারি চাকুরিজীবী এবং যাঁদের নাম এসআইআরে বাদ পড়ার পর ট্রাইব্যুনাল বা সিএএ-তে আবেদন করেননি, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না। প্রথমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের সরাসরি এই টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, সেই তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ধরা পড়ায় বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকলের জন্যই নতুন করে ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করেছে। আগামী ৩ জুন থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৩ হাজার টাকা ট্রান্সফার করা শুরু হবে।

জটিল ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ও সরকারি আশ্বাস

১২ পাতার এই বিশাল ফর্মে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জমির পরিমাণ এবং সন্তানদের টিকাকরণের স্ট্যাটাসসহ একাধিক খুঁটিনাটি আর্থ-সামাজিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই জটিল ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু গুজবেরও জন্ম দেয়। পোর্টালে লগ ইন করার ক্ষেত্রেও সাময়িক কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

জনসাধারণের এই উদ্বেগ দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ফর্ম পূরণ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার বা গুজবে কান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য প্রতিটি বাড়িতে সরকারি প্রতিনিধি পাঠানো হবে, যাঁরা সরাসরি আবেদনকারীদের পাশে বসে নির্ভুলভাবে এই ফর্ম পূরণ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যেকোনো ধরণের জালিয়াতি রোধ করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *