জনরোষ থেকে বাঁচতে মাথায় হেলমেট, অভূতপূর্ব নিরাপত্তায় আদালতে বর্ধমানের দাপুটে প্রাক্তন বিধায়ক

ডিম এবং জুতোর আঘাত থেকে মাথা বাঁচাতে এবার খোকন দাসের মাথায় উঠল হেলমেট। সদ্য সোনারপুরে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনার পর জনরোষের তীব্রতা আঁচ করে মঙ্গলবার বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে আদালতে তোলার সময় পুলিশ কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। কড়া নিরাপত্তায় থানা থেকে বের করে, একেবারে হেলমেট পরিয়ে মুখ ঢাকা অবস্থায় তাঁকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করার পর এদিন ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয় এই দাপুটে নেতাকে। তাঁর গ্রেপ্তারির খবর ছড়াতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এলাকায় ‘চোর’ স্লোগান দিয়ে গান-বাজনা, লাড্ডু বিলি এবং আবির খেলার মতো ঘটনাও ঘটে, যা প্রাক্তন বিধায়কের প্রতি জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
তদন্তের টানাপোড়েন ও পলায়ন
বাম আমলে বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা খোকন দাস ২০১৩ সালে দলের ‘ডিফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই এলাকায় তাঁর প্রতিপত্তি ও দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় বহু মানুষের ঘরছাড়া হওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম জড়ায়। এমনকি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের রিপোর্টে খোকন দাসকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বা কুখ্যাত অপরাধী বলে উল্লেখ করেছিল। সিবিআই তদন্ত শুরু হলেও দীর্ঘদিন তিনি অধরা ছিলেন। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ জমা পড়ে এবং তদন্ত গতি পায়। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় তিনি ভিনরাজ্যে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
সামাজিক প্রভাব ও ক্ষোভের কারণ
খোকন দাসের বিরুদ্ধে বেআইনি বালি কারবার, চড়া সুদের ব্যবসা, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং বেআইনি নির্মাণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কাঞ্চননগরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বলিউড তারকাদের নিয়ে উৎসবের আয়োজন করে তিনি নিজের প্রভাব জাহির করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের কারণেই তাঁর পতনে জনতা রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেছে। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে রক্ষা করতে পুলিশের এই হেলমেট পরানোর কৌশল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে প্রশাসন এখন অত্যন্ত সতর্ক।