তৃণমূলের অন্দরেই কি সই কাণ্ডের জট, সমাধান খুঁজতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক

বিধানসভায় সই বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। ঘটনার জল গড়িয়েছে আইনি তদন্ত পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনি জটিলতা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে সোমবার কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমোর বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের অনুমান, এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
যেখান থেকে বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে কালীঘাটে দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয় এবং উপস্থিত বিধায়করা তা সমর্থন করেন। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর বিধানসভার সচিব বিরোধী দলনেতার নাম সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র চান। সেই উদ্দেশ্যে ১৯ মে পুনরায় কালীঘাটে বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয় এবং উপস্থিত সকলের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিধানসভায় ৭০ জন বিধায়কের সই সংবলিত একটি কাগজ জমা দিয়ে সেটিকে বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র হিসেবে দাবি করে তৃণমূল। কিন্তু বিধায়কদের মূল সইয়ের সাথে এই কাগজের সইয়ের অমিল থাকায় বিধানসভার সচিবের মনে জালিয়াতির সন্দেহ জাগে। বিষয়টি নিয়ে থানায় এফআইআর দায়ের হলে তদন্তভার নেয় সিআইডি এবং একাধিক বিধায়ককে নোটিস পাঠানো হয়।
দলীয় কোন্দল ও আইনি রণকৌশল
এই আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই বিতর্ক আরও উসকে দেন দলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, ১৯ তারিখের উপস্থিতির খাতার পাতা ছিঁড়ে সেটিকে রেজুলিউশনের কাগজ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছিল। এই বিস্ফোরক দাবির পরপরই দল তাঁদের বহিষ্কার করে। সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত না থাকলেও বর্ষীয়ান নেতারা দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। নেতাদের ধারণা, এই সই বিতর্ক আসলে সুনিপুণভাবে সাজানো একটি চক্রান্ত, যার বীজ অনেক আগেই বপন করা হয়েছিল। এই সংকটের ফলে দল বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তির সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সিআইডি তদন্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কীভাবে আইনি পথে এই জট কাটানো যায়, বৈঠকে মূলত সেই রণকৌশলই স্থির করা হয়েছে।