আইনি বিপাকে তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজিকর কাণ্ডে নির্যাতিতার নাম প্রকাশের অভিযোগ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার বড়সড় আইনি জটিলতার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের আরজিকর হাসপাতালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আবহে নির্যাতিতা চিকিৎসকের নাম একাধিকবার প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, সাংসদ পদমর্যাদার একজন ব্যক্তি হয়েও তিনি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ করেছেন এবং এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা হোক।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও দেড় বছর পর আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, যখন আরজিকর কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল ছিল গোটা রাজ্য। সেই সময়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। অভিযোগ, উক্ত ভিডিওটিতে তিনি চার থেকে পাঁচবার নিহত তরুণী চিকিৎসকের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। ভিডিওটি সেসময় ব্যাপক ভাইরাল হয়। তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও তদানীন্তন সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়ে পুনরায় চারু মার্কেট থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই আইনজীবী।
আইনি প্রভাব ও সম্ভাব্য জটিলতা
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনো যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় কোনোভাবেই প্রকাশ করা যায় না। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চারু মার্কেট থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার জেরে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ বা এফআইআর দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও সেই ভিডিওর উপস্থিতি থাকায় এই আইনি বিতর্ক সাংসদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।