মমতার হাইভোল্টেজ ধর্নায় হাতে গোনা বিধায়ক, সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুর

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর রাজপথের শক্তি পরীক্ষায় বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের ক্ষোভ ও ভাঙন আড়াল করতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ওয়াই চ্যানেলের ধর্না কর্মসূচি কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। খাতায়-কলমে দলের হাতে ৭৮ জন বিধায়ক থাকলেও, মঙ্গলবারের এই হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে দেখা মিলল মাত্র ৬ জন বিধায়কের। পাশে ছিলেন মাত্র ৫ জন সাংসদ। কালীঘাটের পর রাজপথের এই দৃশ্য দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব এবং সাংগঠনিক স্তরের চরম কোন্দলকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সংগঠন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বহু প্রবীণ ও নবীন নেতা ইতিমধ্যেই দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এর আগে কালীঘাটের বৈঠকে ২০ জনেরও বেশি বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় বৈঠক বাতিল করতে হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়, যখন অরূপ বিশ্বাস বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ সারির তরুণ নেতাদের অনুপস্থিতিতে কেবল নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হাতে গোনা কয়েকজন আদি তৃণমূল নেতাকে দলনেত্রীর পাশে দেখা যায়।
বিজেপিকে সরানোর বার্তা ও শুভেন্দুর খোঁচা
দলের এই নজিরবিহীন দুর্দিনেও অবশ্য নিজের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলে তিনি হুঙ্কার দেন, বেঁচে থাকলে বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করবেন। তবে এই কর্মসূচির ব্যর্থতা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকেশ্বর থেকে খোঁচা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, তৃণমূলের অবস্থা এখন এতটাই শোচনীয় যে দলটা কার্যত বিলুপ্তির পথে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধায়কদের ফোন করার গুঞ্জনকেও হাসির ছলে উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুর চড়ান। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিধায়ক-সাংসদদের এই গণ-অনুপস্থিতি আগামী দিনে ঘাসফুল শিবিরের জন্য আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।