কলকাতা পুরসভায় টলমল শাসকদলের তরী, দল ও মেয়রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ইস্তফা তারক সিংয়ের

কলকাতা পুরসভায় ফের বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দল ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মেয়র পারিষদ (এমআইসি) পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ রাজনীতিক তারক সিং। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কাউন্সিলর পদে থাকা এবং দলের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পরিচিত তারক সিংয়ের এই আকস্মিক পদত্যাগ কলকাতার পুর-রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর ইতিমধ্যেই দুই বরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নিকাশি ও জল সরবরাহ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা তারক সিংয়ের পদত্যাগ পুরসভার অন্দরে শাসকদলের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলল।
পুরসভায় অচলাবস্থা ও ক্ষোভের কারণ
পদত্যাগের ঘোষণা করে তারক সিং সরাসরি পুরসভার বর্তমান কাজকর্ম এবং মেয়রের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর পুরসভায় এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না এবং ডাকলেও অনেকে আসছেন না। সামনেই বর্ষা মরশুম, অথচ নিকাশি ও জল সরবরাহ সংক্রান্ত কোনো পূর্বপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। চলতি মাসে কোনো মেয়র পারিষদ বৈঠক না হওয়া এবং এই সংকটের সময়েও মেয়র ফিরহাদ হাকিম কোনো আলোচনা না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। কাজ করার পরিবেশ না থাকার কারণেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সংকট
তারক সিংয়ের মতো একজন অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ কলকাতা পুরসভার প্রশাসনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার মুখে নিকাশি বিভাগের প্রধানের ইস্তফা শহরের নাগরিক পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে যে সমন্বয়ের অভাব ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এই ইস্তফা তারই বহিঃপ্রকাশ। একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা পুর প্রশাসনে শাসকদলের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক আক্রমণকে আরও শাণিত করার সুযোগ করে দেবে।