ভাঙন-শঙ্কার মেঘে ঢাকল মমতার ধর্না, পরিস্থিতি সামলাতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক

ভাঙন-শঙ্কার মেঘে ঢাকল মমতার ধর্না, পরিস্থিতি সামলাতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সম্ভাবনা দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, মঙ্গলবার দুপুরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বনির্ধারিত ধর্না কর্মসূচি ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল আবহে দলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল ঠিক করতে এবং ফাটল রুখতে মঙ্গলবার কালীঘাটে দলনেত্রীর বাসভবনে এক জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে বিধায়ক কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রের খবর, ধর্না কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি কীভাবে পরিষদীয় দলের ভাঙন আটকানো যায়, তা নিয়েই মূলত এই শলাপরামর্শ চলেছে।

পরিষদীয় দলে ফাটল ও বহিষ্কারের রাজনীতি

তৃণমূলের অন্দরে এই ফাটলের চিত্রটি প্রথম স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত রবিবারের কালীঘাটের বৈঠকে। দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, যা নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দেয়। এর পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় সই জাল-কাণ্ড সামনে আসায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নবান্নে জানান, বিধায়কদের সই নকল করার অভিযোগে তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে নালিশ জানিয়েছেন। এই ঘটনার পরপরই তৃণমূল তড়িঘড়ি উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘বেসুরো’ বিধায়কদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হলেও দলের অন্দরে অস্বস্তি কমেনি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রবিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকা অনেক বিধায়কও গোপনে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

ধর্না নিয়ে সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব

দলীয় অসন্তোষের সমান্তরালে ধর্না কর্মসূচির অনুমতি নিয়েও পুলিশের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গভীর রাতে ইমেল পাঠিয়ে পুলিশ ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি করার শর্ত দিয়েছে, যা বিরোধী স্বরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা। যদিও শেষ পর্যন্ত দুপুর ২টো থেকে ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে কর্মীরা ওয়াই চ্যানেলে পৌঁছান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের এক মাস পার হতে না হতেই প্রধান বিরোধী দলের এই ভাঙন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে সংকটে ফেলতে পারে। ভাঙন পুরোপুরি রোখা সম্ভব নয় ধরে নিয়েই এখন মমতার ঘনিষ্ঠ নেতারা ‘আবেগ’ ও ‘অনুগত্যের’ তাস খেলে বিধায়কদের ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে বিদ্রোহী শিবিরে শেষ পর্যন্ত কতজন বিধায়ক শামিল হন, তার ওপরেই নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *