কৌতূহল বাড়িয়ে হঠাৎ দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও স্পিকার রথীন্দ্র

রাজ্য মন্ত্রিসভার মেগা সম্প্রসারণের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই আকস্মিক দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে জনসংযোগ কর্মসূচি এবং তারকেশ্বর সফর সেরেই তিনি রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরে তাঁর সঙ্গী হচ্ছেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জরুরি তলবেই এই আচমকা সফর এবং প্রয়োজনীয় বৈঠক সেরে আজ রাতেই তাঁর কলকাতায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।
সোমবারই লোক ভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভায় নতুন করে ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। বড়সড় এই রদবদলের ঠিক পরের দিনই স্পিকারকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি যাত্রা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের নেপথ্যে যেমন নবগঠিত মন্ত্রিসভার ভবিষ্যৎ রূপরেখা রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিরোধী শিবিরের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর কৌশল।
মন্ত্রিসভার অপূর্ণতা ও সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত
সোমবারের শপথ গ্রহণে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রীসহ মোট ৩৫ জন দায়িত্ব নিলেও মন্ত্রিসভায় এখনও তিনটি পদ খালি রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নদীয়া এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কোনো বিধায়ক এই দফায় স্থান পাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া জেলাগুলোর ক্ষোভ প্রশমন এবং খালি থাকা পদগুলোতে দ্রুত যোগ্য মুখ বসানোর বিষয়ে ছাড়পত্র নিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মুখোমুখি হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে, কারণ নতুন মন্ত্রীদের বিধানসভা সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিরোধী শিবিরে ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সফরের অন্য একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংকটকে। সম্প্রতি কালীঘাটে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনেরই অনুপস্থিতির কারণে বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হন তৃণমূল নেত্রী। বিধায়কদের এই গণ-অনুপস্থিতি এবং ‘সই-কাণ্ড’ বিরোধী শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিরোধী দলের এই চরম ডামাডোল পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে রাজ্যে শাসক শিবিরের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে এই রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে।