মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে সঙ্গীতশিল্পীরা, ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজের বিস্ফোরক অভিযোগ

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার বিনোদন জগতেও বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হওয়া। পূর্বতন সরকারের আমলে সঙ্গীতজগতেও তীব্র বঞ্চনা, লবিবাজি এবং ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চলত বলে সরাসরি অভিযোগ তুললেন একদল বিক্ষুব্ধ সঙ্গীতশিল্পী। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপি দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়ে এই বিস্ফোরক দাবি জানান ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। তাঁদের মূল নিশানা তৎকালীন সরকারের তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
বঞ্চনা ও কাটমানির অভিযোগ
বিক্ষুব্ধ সঙ্গীতশিল্পীদের দাবি, বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় সঙ্গীত ক্ষেত্রে অবাধে কাটমানি সংস্কৃতি চলেছে। তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন নিজের ঘনিষ্ঠ লবির শিল্পীদেরই সমস্ত বড় সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ করে দিতেন। এর ফলে বহু যোগ্য ও গুণী শিল্পী বছরের পর বছর ধরে চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ, সরকারি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনের সুযোগ পাওয়ার বিনিময়ে শিল্পীদের কাছ থেকে কাটমানি পর্যন্ত নেওয়া হতো। তৎকালীন শাসকদলের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যারা সহমত পোষণ করেননি, তাঁদের ইচ্ছাকৃতভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের শিল্পীরা এ রাজ্যে এসে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেলেও, ঘরের শিল্পীরা ব্রাত্যই থেকে গেছেন। নতুন সরকারের কাছে এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের পরিবেশ তৈরির আর্জি জানিয়েছেন শিল্পীরা।
অভিযোগ অস্বীকার প্রাক্তন মন্ত্রীর
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর গায়ে কাদা ছেটানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিগত ১৫ বছরে রাজ্যের হাজার হাজার শিল্পী সরকারি স্তরে পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, গত ১৫ বছরে লক্ষাধিক পারফর্ম করা শিল্পীদের মধ্যে একজনও যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কারও থেকে পাঁচ টাকার মিষ্টিও খেয়েছেন, তবে প্রশাসন যে কোনও পদক্ষেপ করলে তিনি তা মাথা পেতে নেবেন।
জনতার দরবারে অন্যান্য আর্জি
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে শুধু সঙ্গীতশিল্পীরাই নন, পূর্বতন সরকারের আমলে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া একাধিক পরিবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ও উত্তর ২৪ পরগনার রহড়া থেকে আসা স্বজনহারা মানুষেরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি, ক্যানসার আক্রান্ত অসহায় নাগরিকরাও চিকিৎসার জন্য সরকারি সাহায্যের আশায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এই জনতার দরবারকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও বঞ্চিত মহলে এক বড়সড় আশার আলো তৈরি হয়েছে।