তীব্র গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস

দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ফের বেড়েছে তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া। গরমে যখন নাজেহাল দশা সাধারণ মানুষের, ঠিক তখনই স্বস্তির খবর শোনাল আবহাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের আরও কিছু এলাকায় মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের শেষেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে।
লেট লতিফ মৌসুমী বায়ু
সাধারণত মে মাসের শেষেই দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা চলে আসে। এবারও মৌসম ভবন ২৬শে মে কেরলে বর্ষা আসার আগাম পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তা পৌঁছাতে পারেনি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কেরল এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশে বর্ষা ঢুকে পড়বে। একই সময়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও মৌসুমী বায়ু অগ্রসর হওয়ার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড়ার পর ঝড়-বৃষ্টি
মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা বাড়লেও তার আগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে গরম ও ভ্যাপসা অস্বস্তি বজায় থাকবে। তবে এই অস্বস্তি কাটিয়ে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় ধেয়ে আসতে পারে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি।
উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত দার্জিলিংয়ের সমতল এলাকা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে গরমের অস্বস্তি থাকবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ঠা জুন থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে। ৪ ও ৫ই জুন সবকটি জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির প্রভাবে আগামী তিন দিন পর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির তাপমাত্রা প্রায় দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাবে, যা জনজীবনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি এনে দেবে।