আগস্ট আসার আগেই এল নিনোর আগমনী বার্তা! WMO বাজাল বড় বিপদের ঘণ্টা

আগস্ট আসার আগেই এল নিনোর আগমনী বার্তা! WMO বাজাল বড় বিপদের ঘণ্টা

বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর এক বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিল ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)। আগামী আগস্ট মাসের শেষের দিকেই বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। WMO-এর জলবায়ু বিভাগের প্রধান মুফামা ওকিয়া জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের আবহাওয়া আরও প্রাণান্তকর ও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা। তবে এবারের এল নিনো ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাপ ও বিশ্বজনীন সংকট

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যার জেরে প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অত্যধিক বেড়ে যায়। এটি নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে তৈরি হলেও এর প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের আবহাওয়া চক্রে। এই খামখেয়ালি আচরণের কারণে পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে যেমন তীব্র খরা দেখা দেয়, ঠিক তেমনই অন্য অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কৃষি, অর্থনীতি ও ভারতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তীব্র খরার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে ভারতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। এল নিনোর প্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে ব্যাহত হতে পারে স্বাভাবিক বর্ষা এবং তীব্রতর হতে পারে গরমের দাপট। অন্যদিকে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রচুর ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

জলবায়ুর এই খামখেয়ালিপনা শুধু আবহাওয়া নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধাক্কা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩-২০২৪ সালের এল নিনোর জেরে পানামায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পানামা খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

WMO জানিয়েছে, তাদের আধুনিক মডেলের মাধ্যমে অন্তত ৬ মাস আগেই এল নিনোর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব এবং সেই অনুযায়ী বিভিন্ন দেশকে তথ্য সরবরাহ করা হবে। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দুর্যোগের মোকাবিলা করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলির নিজেদেরই। অতীতের ক্ষয়ক্ষতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্ব রাষ্ট্রগুলি এবার কতটা প্রস্তুতি নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *