শৌচালয়ের পাশে সরকারি নথিতে আগুন, বাঁকুড়ায় কি দুর্নীতির প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চলছে!

শৌচালয়ের পাশে সরকারি নথিতে আগুন, বাঁকুড়ায় কি দুর্নীতির প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চলছে!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার বাঁকুড়া জেলায় সরকারি আবাস প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ আধপোড়া নথি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত দ্বারিকা গোঁসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরের শৌচালয়ের পাশ থেকে এই নথিগুলি উদ্ধার হয়। বিগত সরকারের আমলে হওয়া আবাস দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ মুছতেই পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক উত্তাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

সন্দেহের কেন্দ্রে আবাসের ছাই

মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা করতে দ্বারিকা গোঁসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে যান। সেখানে শৌচালয়ের পাশে বিপুল পরিমাণ কাগজ পোড়ানোর ছাই ও ধোঁয়া দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর সেই ছাই সরিয়ে বেশ কিছু আধপোড়া নথি উদ্ধার করা হয়, যেগুলিতে স্পষ্টাক্ষরে সরকারি আবাস প্রকল্পের তালিকা ও উপভোক্তাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরপরই এমন স্পর্শকাতর সরকারি নথি পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাটি সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তদন্তের দাবি বনাম পঞ্চায়েতের সাফাই

বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প, বিশেষ করে গ্রামীণ আবাস যোজনায় স্বজনপোষণ ও প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করার ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপির অভিযোগ, নতুন জমানায় সেইসব দুর্নীতির আইনি তদন্ত এবং শাস্তি এড়াতে তৎকালীন শাসকদলের নেতারাই পঞ্চায়েত স্তরে নথিপত্র পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্ট করছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছে।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো ব্যানার, ফেস্টুন এবং কিছু অপ্রয়োজনীয় কাগজ সাফাইয়ের উদ্দেশ্যে পোড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে কিছু পুরনো আবাসের তালিকাও ছিল। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে সমস্ত কাজ অনলাইন পদ্ধতিতে হওয়ায় নথি পোড়ালেও মূল তথ্য সুরক্ষিত রয়েছে এবং আবাসে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তবে ডিজিটাল ব্যাকআপের যুক্তি থাকলেও, প্রকাশ্য দিবালোকে পঞ্চায়েত চত্বরে কেন এবং কার নির্দেশে সরকারি নথিতে আগুন দেওয়া হলো, সেই রহস্যের জট খোলার অপেক্ষায় জেলা প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *