বদল আসছে টলিউডে, নয়া তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী নিয়ে মুখ খুললেন রুদ্রনীল

পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন ব্যাপক চর্চা চলছে, ঠিক তখনই বিনোদন জগৎ তথা টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো দেখছেন শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। নতুন সরকার গঠনের পর ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এই নতুন রাজনৈতিক আবহে বিনোদন ও সাংস্কৃতিক জগতের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন রুদ্রনীল।
ভয়হীন কাজের পরিবেশ গড়ার আহ্বান
বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দফতর পরিচালনার দায়িত্বে কে আসছেন সে বিষয়ে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো আন্দাজ নেই। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিনোদন জগতের হোন বা বাইরের, কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো ভয় বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়া একটি সুস্থ ও ভরসাযোগ্য কাজের পরিবেশ তৈরি করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
স্বজনপোষণ মুক্ত টলিউডের প্রত্যাশা
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রুদ্রনীল অভিযোগ তুলেছেন যে, বিগত দিনে চূড়ান্ত স্বৈরাচার ও স্বজনপোষণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে কলুষিত করা হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে শিল্প-সংস্কৃতির দুনিয়া ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে রাজনৈতিক কারণে কাজ থেকে বঞ্চিত না হন, নতুন সরকার প্রথম থেকেই সেই চেষ্টা শুরু করেছে।
তাবেদারি বন্ধ ও সম্ভাব্য প্রভাব
টলিউডসহ সঙ্গীত ও নৃত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে তাবেদারি ও অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে নতুন প্রশাসন ইতিমধ্যে তৎপর হয়েছে। রুদ্রনীল জানিয়েছেন, প্রাথমিক স্তরে সিনেমার জগতের চারজন প্রতিনিধির ওপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাতে বিগত দিনের অনিয়ম ও অন্যায়ের তথ্য সঠিক জায়গায় পৌঁছানো যায়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নতুন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রক গঠিত হওয়ার পর টলিউডের দীর্ঘদিনের ‘দাদাগিরি’ ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটতে পারে। এর ফলে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ টেকনিশিয়ান, লেখক এবং প্রকৃত যোগ্য শিল্পীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলার সাংস্কৃতিক আঙিনাকে আরও উন্নত ও স্বনির্ভর করে তুলবে।