হাতে সংবিধান নিয়ে রাজপথে মমতা, বিধানসভা বিপর্যয়ের পর ধর্মতলায় প্রথম কর্মসূচিতেই বিশৃঙ্খলা

হাতে সংবিধান নিয়ে রাজপথে মমতা, বিধানসভা বিপর্যয়ের পর ধর্মতলায় প্রথম কর্মসূচিতেই বিশৃঙ্খলা

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে এই প্রথম কলকাতার রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ধর্নামঞ্চে বক্তব্য রাখার মাঝপথেই নিজের ভাষণ থামাতে বাধ্য হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন দুপুরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মাল্যদান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর হাতে ভারতের সংবিধানের একটি কপি নিয়ে সোজা হেঁটে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের দিকে রওনা দেন তিনি। মিছিলে তাঁর সঙ্গে পা মেলান মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেনের মতো দলের চেনা নেতারা।

জনপ্রতিনিধিদের গরহাজিরা ও দলের অন্দরের ফাটল

তৃণমূল সুপ্রিমোর এই হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতির খতিয়ান নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিধানসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর এদিনের মঞ্চে দলের অধিকাংশ বিধায়ক এবং সাংসদকেই দেখা যায়নি। নেত্রীর পাশে মঞ্চে ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মালা রায় ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হাতেগোনা কয়েকজন প্রথম সারির নেতা-নেত্রী হাজির ছিলেন। কাউন্সিলরদের মধ্যে স্বপন সমাদ্দার অনুগামীদের নিয়ে মিছিলে এলেও, সিংহভাগ জনপ্রতিনিধির এই অনুপস্থিতি দলের অন্দরের ফাটল ও সমন্বয়হীনতাকেই প্রকাশ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লড়াইয়ের বার্তা ও চক্রান্তের অভিযোগ

ওয়াই চ্যানেলের অস্থায়ী মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে কড়া বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত করছে এবং বেআইনিভাবে দলের বিধায়ক, কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। গভীর রাতে পুলিশি অনুমতির কড়াকড়িকে বিরোধী স্বর দমানোর চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে পথে নেমে লড়াইয়ের ডাক দিয়ে তৃণমূলনেত্রী স্পষ্ট জানান, সংবিধানের প্রতিটা শব্দ রক্ষা করতে এবং অধিকার ছিনিয়ে নিতে যেখানে জায়গা পাবেন, সেখানেই তিনি বসে পড়বেন, তাঁকে আটকে রাখা যাবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *