সীমান্ত বিতর্কে চিন ও ব্রিটেনকে টেনে আনার নেপালের প্রস্তাব খারিজ করল ভারত, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার স্পষ্ট বার্তা

সীমান্ত বিতর্কে চিন ও ব্রিটেনকে টেনে আনার নেপালের প্রস্তাব খারিজ করল ভারত, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার স্পষ্ট বার্তা

ভারত ও নেপালের মধ্যকার সংবেদনশীল সীমান্ত বিতর্কে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। লিপুলেখ ও কালাজল সীমান্ত ইস্যুতে চিন ও ব্রিটেনকে ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় আলোচনায় যুক্ত করার যে প্রস্তাব নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ভারতের স্পষ্ট অবস্থান, দুই দেশের এই বিরোধ সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং তা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সমাধান করা হবে।

নেপালের বিতর্কিত প্রস্তাব ও ভারতের কড়া জবাব

সম্প্রতি নেপালের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দাবি করেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের পাশাপাশি চিন ও ব্রিটেনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁর যুক্তি ছিল, ব্রিটিশ আমলের তৈরি হওয়া সীমান্ত জটিলতার কারণে ব্রিটেনের এখানে ভূমিকা থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নেপালও ভারতের কিছু জমি দখল করে রেখেছে।

নেপাল প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং দেশটির বিদেশমন্ত্রকের ব্যাখ্যা ভারত খতিয়ে দেখেছে। তবে এই সমস্যা মেটানোর জন্য ভারত ও নেপালের মধ্যে ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আলোচনা এগিয়ে চলছে। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের উপস্থিতির প্রশ্নই ওঠে না।

সীমান্ত বিরোধের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভারত ও নেপালের মধ্যকার প্রায় ৯৮ শতাংশ সীমান্ত ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে গণ্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কিছু কিছু এলাকায় সীমান্ত নির্ধারণে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্তের কিছু চিহ্নিত অংশে জমি দখল এবং ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ অনুপ্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের যৌথ প্রতিনিধি দল ওই এলাকাগুলির মানচিত্রায়ণ ও সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাজল অঞ্চলকে নিজেদের উত্তরাখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে ভারত। অন্যদিকে নেপালও এই অঞ্চলগুলোকে নিজেদের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে। এই ভূখণ্ডগত বিরোধ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সংবেদনশীল ইস্যু।

কূটনৈতিক সম্পর্কে সম্ভাব্য প্রভাব

নেপালের এই আন্তর্জাতিকীকরণের চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের কৌশলগত প্রতিবেশী চিনের নাম এই বিতর্কে জড়িয়ে নেপাল নয়াদিল্লির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ভারত শুরুতেই এই চেষ্টা অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেওয়ায় নেপালকে এখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলেই ফিরতে হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্বার্থে দুই দেশকেই যৌথ মানচিত্রায়ণের মাধ্যমে দ্রুত এই অমীমাংসিত সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *