বেটিং চক্রের হদিশে সিআইডি, সামনে এল কোটি টাকার সাম্রাজ্য! কী কী মিলল অভিযানে?

বেটিং চক্রের হদিশে সিআইডি, সামনে এল কোটি টাকার সাম্রাজ্য! কী কী মিলল অভিযানে?

আন্তর্জাতিক বেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘ডাফাবেট’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি দেশব্যাপী অবৈধ অনলাইন জুয়া ও বেটিং চক্রের মূল উপড়ে ফেলল তেলঙ্গানা সিআইডি। সিআইডির স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) দিল্লি, গুজরাত এবং পাঞ্জাবে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হয়েছে ৪৬টি ‘মিউল’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ২৬টি মোবাইল ফোন, তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথি। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে জাল বিস্তার করা এই আন্তঃরাজ্য সিন্ডিকেটের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণকে সাইবার অপরাধ দমনে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অপরাধের নেপথ্যে কোটি টাকার আর্থিক পাচার নেটওয়ার্ক

তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতারকৃত অপরাধীরা বিভিন্ন সাধারণ মানুষের নথিপত্র ব্যবহার করে ভুয়া বা ‘মিউল’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিল। উদ্ধার হওয়া ৪৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেটিং বা জুয়া থেকে অর্জিত অবৈধ টাকা বিভিন্ন রাজ্যে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পাচার করা হতো। মূলত আর্থিক লেনদেনের মূল উৎস গোপন রাখতেই এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলির সাহায্য নেওয়া হতো এবং অর্জিত কালো টাকা বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ভোগবিলাসে বিনিয়োগ করা হতো বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে।

সহজ উপার্জনের প্রলোভন ও ডিজিটাল ফাঁদ

সিআইডি ও সাইবার ক্রাইম শাখার তথ্য অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন এবং জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সহজে ও দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখাত এই চক্রটি। মূলত যুবসমাজকে টার্গেট করে এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলিতে টেনে আনা হতো। এই অভিযানের ফলে সাময়িকভাবে চক্রটির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলেও, আন্তর্জাতিক স্তরের এই বেটিং চক্রের নেটওয়ার্ক কতটা গভীরে, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ডিজিটাল লেনদেনের এই আধুনিক ফাঁদ আগামী দিনে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *