বিধানসভার গেটে হঠাৎ মুখোমুখি কুণাল ও তাপস, চাইলেন লুচি-পটল ভাজা খাওয়ার আবদার!

বিধানসভার গেটে হঠাৎ মুখোমুখি কুণাল ও তাপস, চাইলেন লুচি-পটল ভাজা খাওয়ার আবদার!

রাজ্য রাজনীতির চেনা বৈরিতা ভুলে বিধানসভার গেটের সামনে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ও হালকা মেজাজের মুহূর্ত। আচমকাই মুখোমুখি হলেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় ও বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক মতাদর্শের দেয়াল সরিয়ে দুই নেতার এই সৌজন্য বিনিময় ও খোশগল্প বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুশল বিনিময়ের মাঝেই তাপস রায়ের বাড়িতে গিয়ে লুচি ও পটল ভাজা খাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ।

পুরনো ক্ষোভ ও রাজনৈতিক সমীকরণ

কথোপকথনের এক পর্যায়ে কুণাল ঘোষ রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেন। তাপস রায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক সাধারণ মানুষকে বোঝানো কঠিন এবং সবকিছুর সঙ্গে রাজনীতি মেলানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে অতীত স্মৃতিরোমন্থন করে তৃণমূল বিধায়ক আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, অতীতে একবার তাপস রায়কে ‘ভালো’ বলার অপরাধে দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল। কুণাল ঘোষ ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, সে সময় যাঁদের প্ররোচনায় দল তাঁকে শাস্তি দিয়েছিল, তাঁরা আজ অন্য দলে গিয়ে ‘নেচে বেড়াচ্ছেন’, অথচ তিনি এখনও নিজের দলের জন্যই লড়াই করে যাচ্ছেন।

ধর্না বিতর্ক ও মেজাজ বদল

হালকা চালের আলোচনার আগে দুই নেতার মধ্যে রাজ্যের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তাপস রায়ের কাছে সরব হন কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত অনুমতি থাকলে তৃণমূল কর্মীরা আরও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারত। পাল্টা জবাবে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় মনে করিয়ে দেন, অতীতে বিজেপিকেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ বা কর্মসূচির অনুমতি পেতে অন্তত ১০৪ বার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

তীব্র এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের পরই অবশ্য পরিবেশ হালকা করেন কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে তিনি সরাসরি তাপস রায়ের স্ত্রীর হাতের রান্নার প্রশংসা করে বাড়ি গিয়ে লুচি-পটল ভাজা খাওয়ার আবদার জানান। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নেতার এমন আকস্মিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রসিকতা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোনো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *