‘MLA হস্টেলে মুড়ি খেয়েছি’, নবান্ন বৈঠকের আগে বিস্ফোরক ঋতব্রত

শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে হাওড়ার বিধায়করা! নবান্ন ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাওড়া গ্রামীণের অধিকাংশ বিধায়ক উপস্থিত থাকবেন বলে দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই সরকারি স্তরের এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও দলের অন্দরের খবর রাখা এবং বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে ঋতব্রতর এই মন্তব্য শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল ভাঙানোর নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
টিএমসি বিধায়কদের দল ভাঙানো বা শিবির বদলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ঋতব্রত অত্যন্ত কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। তিনি পুরনো স্মৃতিচারণ করে বলেন, এর আগে এমএলএ হস্টেলে জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার সঙ্গে বসে মুড়ি খাওয়ার সময় যে রাজনৈতিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল, তার রেশ এখনো বিদ্যমান। এমনকি, সম্প্রতি মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে গিয়ে একান্ত বৈঠকের কথাও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং সম্পর্কের সমীকরণগুলো এখন নতুন করে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। রথীন ঘোষ বা অন্যান্য বিধায়কদের সঙ্গে ঋতব্রতর এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্যমূলক কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন থাকলেও, নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে এই দাবি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এর ফলে বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।