তীব্র গরমে নাজেহাল পড়ুয়ারা, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সকালে স্কুল চালুর বড় সিদ্ধান্ত শিক্ষাদপ্তরের

দীর্ঘ গরমের ছুটির পর স্কুল খুলতেই রাজ্যজুড়ে চড়েছে পারদ। আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণবঙ্গে অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকার ইঙ্গিত দেওয়ায় এবং বর্ষার আগমনের সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছে স্কুলপড়ুয়ারা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যের শিক্ষাদপ্তর আগামী দুই সপ্তাহের জন্য স্কুলগুলির সময়সীমা পরিবর্তনের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, তীব্র গরমের দাপট থেকে পড়ুয়াদের স্বস্তি দিতে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখন থেকে সকালেই স্কুল চালু করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাহাড় বাদে পুরো রাজ্যেই কার্যকর হবে এই নিয়ম
চলতি বছর প্রথমে ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি নির্ধারিত থাকলেও, তীব্র দাবদাহের কারণে তা বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়েছিল। ১ জুন থেকে স্কুল খুললেও গরমের তীব্রতা বিন্দুমাত্র না কমায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাদপ্তরের এই নির্দেশিকা পাহাড়ি এলাকা বাদে রাজ্যের সমস্ত জেলার জন্যই কার্যকর করা হয়েছে। তবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গরমের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকায় সেখানে এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছে দপ্তর। ইতিমধ্যেই জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) মাধ্যমে স্কুলগুলিতে এই নির্দেশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির ওপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (এসআই)।
পরিবর্তিত সময়সূচির কারণ ও পরিকাঠামোগত প্রভাব
মূলত দুপুরের তীব্র রোদ এবং অস্বস্তিকর আর্দ্রতা থেকে শিশুদের শারীরিক অসুস্থতা এড়াতেই এই সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকালে ক্লাস হলে পড়ুয়ারা অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা আবহাওয়াতে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তবে এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু পরিকাঠামোগত প্রভাব ও জটিলতাও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে একই ভবনে সকালে প্রাথমিক এবং দুপুরে উচ্চ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ক্লাস চলে, সেখানে সব পড়ুয়াদের একসঙ্গে সকালে জায়গা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিজ্ঞপ্তিতে এই জটিলতা নিরসনের সুনির্দিষ্ট উপায় বাতলে দেওয়া না হলেও, স্কুলগুলিকে স্থানীয় জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।