মেসি কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পুলিশি তলব, দুই দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ বিধাননগর থানায়

যুবভারতীতে বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও টিকিট কালোবাজারির ঘটনায় এবার চরম অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত ১৭ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে আগামী ৪ জুনের মধ্যে থানায় সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। মেসির ‘গোট’ টুরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে।
অভিযোগের পাহাড় এবং মামলার ধারা
প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তের দাবি, মেসির ইভেন্টকে কেন্দ্র করে প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করা হয়েছিল, যার পেছনে প্রভাব খাটিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী। এছাড়া অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং মেসির ইভেন্টের নিরাপত্তায় চরম গাফিলতির অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি অনুমতি ছাড়াই ক্ষমতার জোরে মেসির কাছাকাছি যাওয়া এবং তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতেই পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পুলিশি তলবের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন। অতীতে এই একই মামলায় ইভেন্টের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শতদ্রুর দাবি, তৎকালীন সরকার নিজেদের মন্ত্রীকে আড়াল করতেই তাঁকে বলির পাঁঠা বানিয়েছিল। বর্তমান নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই বিশৃঙ্খলা কাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ফলে প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাবের কারণে তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রীদের ওপর আইনি চাপ বাড়ছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্তের জল যত দূর গড়াবে, তাতে রাজ্যের পূর্বতন শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং আগামী দিনে ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে আরও বড় পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।