“‘৭০০ জন আমায় ধর্ষণ করেছে’, সংসদে কাঁপন ধরানো সাক্ষ্যে ফাঁস পাকিস্তানি গ্রুমিং গ্যাংয়ের অন্ধকার জাল”

ব্রিটেনে পাকিস্তানি গ্রুমিং গ্যাংয়ের ভয়াবহ নগ্ন রূপ এবার খোদ ব্রিটিশ সংসদে ফাঁস হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। দেশটির প্রায় ৮৫টি এলাকায় সক্রিয় এই অপরাধ চক্রের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে শত শত শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিস্টান নাবালিকা ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ এমপি রুপের্ট লো সংসদে নির্যাতিতাদের লোমহর্ষক বয়ান তুলে ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানোর পর বিষয়টি নতুন করে জনসমক্ষে আসে।
সংসদে উত্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, মাত্র ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অসহায় ও অরক্ষিত কিশোরীদের টার্গেট করে এই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত চক্রগুলো অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাত। এক নির্যাতিতার দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁকে দীর্ঘ তিন বছর যৌনদাসী করে রাখা হয়েছিল এবং এই সময়ে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন পুরুষ তাঁকে ধর্ষণ করে। অন্য এক কিশোরীকে কুকুরের খাঁচায় বন্দি করে পাশবিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি সেই দৃশ্য ধারণ করার মতো ভয়ংকর চিত্রও উঠে এসেছে এই তদন্তে।
প্রশাসনের ব্যর্থতা ও বর্ণবৈষম্যের নগ্ন রূপ
এই গ্যাংগুলোর দীর্ঘস্থায়ী বাড়বাড়ন্তের পেছনে ব্রিটিশ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম অবহেলা এবং ব্যর্থতাকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। ইয়র্কশায়ারের রদারহ্যাম শহরে ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও ২০১৪ সালের এক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসন তখন বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়। রচডেল, অক্সফোর্ড, টেলফোর্ড এবং ব্রিস্টলসহ প্রায় ৫০টি শহরে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এই অপরাধের পেছনে গভীর বর্ণবৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। অপরাধীরা শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিস্টান মেয়েদের টার্গেট করে এই ঘৃণ্য নির্যাতন চালাত, যা সামাজিক সুরক্ষাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
প্রতিরোধের চেষ্টা ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
এই ভয়াবহ সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক শিশুদের যৌন শোষণ রুখতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন, যার অধীনে এক বছরে সাড়ে পাঁচশোরও বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে ১,১৫,০০০-এর বেশি যৌন অপরাধের ঘটনা নিবন্ধিত হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই গ্রুমিং গ্যাংয়ের কারসাজি। সংসদে এই নতুন তথ্য ফাঁসের ফলে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিবাসন নীতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অপরাধ দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা আগামী দিনে ব্রিটেনের সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইন আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।