সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভেতরেই ‘গোপন বেডরুম’! টাকার ব্যাগের পর কী মিলল, জানলে চমকে উঠবেন

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই বিলাসবহুল বেডরুম, আগ্নেয়াস্ত্র এবং আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে দুই ব্যাগ ভর্তি উই পোকায় খাওয়া টাকা উদ্ধারের পর তল্লাশি চালাতেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের ভেতরে থাকা এই গোপন কক্ষগুলি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও তাঁর ছেলে নিজেদের ব্যক্তিগত বিনোদনের জন্য ব্যবহার করতেন।
শিক্ষাঙ্গনে প্রমোদকক্ষ ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী
কলেজের ভেতরে ‘টেরেস ফেসিলিটি’-র নামে দুটি আধুনিক ও বিলাসবহুল বেডরুম তৈরি করা হয়েছিল, যার উদ্বোধন করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়ক। এই কক্ষগুলিতে এসি, দামি খাট, বিছানা এবং অ্যাটাচ বাথরুমের মতো সমস্ত আধুনিক সুবিধা ছিল। অভিযোগ, কলেজের পরিচালন সমিতির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘরগুলির চাবি নিজেদের কাছে রাখতেন এবং কলেজের কর্মীদের দিয়ে সেখানে ম্যাসাজ করাতেন। এছাড়া কলেজের ছাদ থেকে খালি মদের বোতল, কমন রুম থেকে কন্ডোমের প্যাকেট এবং ইউনিয়ন রুম থেকে কালো প্যাকেটে মোড়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রভাব ও কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন এবং কলেজের এই কক্ষগুলিকে বাণিজ্যিক হোটেলের ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইউনিয়ন রুম থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ইডি)-কে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কলেজের এই দুর্নীতির টাকা উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছাত। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে কলেজের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।