মমতার ধর্নায় মাত্র ৬ বিধায়ক, তৃণমূলের করুণ অবস্থা নিয়ে শুভেন্দুর তীব্র খোঁচা

নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার রাজপথের শক্তি পরীক্ষাতেও বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ধর্না কর্মসূচিতে কার্যত জনশূন্য দশা তৈরি হয়। খাতায়-কলমে দলের হাতে ৭৮ জন বিধায়ক থাকলেও, এদিনের কর্মসূচিতে দেখা মিলল মাত্র ৬ জনের। একই সাথে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫ জন সাংসদ। দলীয় নেত্রীর কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের এই চরম অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরের তীব্র ফাটলকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, তৃণমূলের অবস্থা এখন ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সংগঠন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সুপ্রিমো ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতা ইদানীং প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এর আগে কালীঘাটে বিজয়ী বিধায়কদের বৈঠকে প্রায় ২০ জন অনুপস্থিত থাকায় বৈঠক বাতিল করতে হয়েছিল। মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নায় নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণ নেতা ছাড়া নতুন প্রজন্মের কোনো বিধায়ককে দেখা যায়নি। সাংসদদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ, সাংসদ ও বিধায়ক মিলিয়ে ১৫ জনকেও পাশে পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুভেন্দুর কটাক্ষ ও মমতার পাল্টা হুঙ্কার
তৃণমূলের এই করুণ দশা নিয়ে তারকেশ্বর থেকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি উপহাসের সুরে বলেন, এত দূরবস্থা যে দলটা এখন ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন করেও বিধায়কদের না পাওয়ার জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করেন। পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের এই ভাঙনের জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছেন। কেন্দ্রীয় শাসকদল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সাথে আত্মবিশ্বাসী সুরে নেত্রী জানান, বিজেপি বাদে সব দলের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে এবং বেঁচে থাকলে তিনি বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করবেনই। তবে এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।