ক্লাসেই নাক দিয়ে রক্ত খুদে পড়ুয়ার! তীব্র গরমে মর্নিং স্কুলের নির্দেশ রাজ্যের
তীব্র গরমে ক্লাসরুমেই নাক দিয়ে রক্ত পড়ল খুদে ছাত্রের, তড়িঘড়ি মর্নিং স্কুলের নির্দেশ রাজ্যের
তিন সপ্তাহের দীর্ঘ গ্রীষ্মের ছুটির পর সোমবার রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুল খুলতেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে গরমের আতঙ্ক। দেশজুড়ে বর্ষা আগমনে বিলম্ব এবং বাতাসে উচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। এই অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে পড়ুয়াদের হাঁসফাঁস অবস্থার কথা মাথায় রেখে স্কুলশিক্ষা দপ্তর সব জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকদের মর্নিং স্কুল চালুর বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের মহারাজপুর ঠাঙ্গাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছর বয়সী ছাত্র অর্ঘ্য সরকারের নাক দিয়ে হঠাৎ রক্তপাত শুরু হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা দ্রুত তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। শিক্ষিকাদের মতে, তীব্র দাবদাহই এই খুদে পড়ুয়ার অসুস্থতার মূল কারণ। একই চিত্র উঠে আসছে বালুরঘাটসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।
মর্নিং স্কুলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধন্দ ও উদ্বেগের কারণ
রাজ্য সরকার পরিস্থিতি সামলাতে আগামী দুই সপ্তাহ স্কুলগুলোকে নিজেদের সুবিধামতো সময়সীমা নির্ধারণের স্বাধীনতা দিলেও, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বেশ কিছু জেলায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ক্লাস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষকদের একাংশের মতে, দুপুর সাড়ে ১২টার সময় সূর্য যখন মধ্যগগনে থাকে, তখন স্কুল ছুটি হলে পড়ুয়াদের বাড়ি ফেরার পথেও হিটস্ট্রোক বা অসুস্থ হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক স্কুলে একই ভবনে একাধিক শিফটে ক্লাস হওয়ায় সব স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মর্নিং শিফট চালু করা প্রশাসনিকভাবেও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গ্রীষ্মের ছুটি দফায় দফায় বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হলেও, জুন মাসেও গরমের দাপট অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিং পাহাড় ব্যতীত রাজ্যের অন্য সব জেলায় পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোকে দ্রুত কার্যকর ও সুচিন্তিত সময়সূচি গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে সচেতন মহল।