একটি মুরগির দাম ৪টি আইফোনের সমান! কোটিপতিরা কেন এই ‘কালো সোনা’র খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন?

একটি মুরগির দাম ৪ লক্ষ টাকা! সোনা ছাপিয়ে বিশ্ববাজারে দাপট দেখাচ্ছে এই ‘নিলয় সোনা’
সাধারণত বাজারদরে ব্রয়লার বা দেশি মুরগির দাম আমাদের হাতের নাগালেই থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন এমন একটি মুরগি রয়েছে, যার একটির দামে অনায়াসেই চারটি আইফোন কেনা সম্ভব? ইন্দোনেশিয়ার অত্যন্ত বিরল এবং আকর্ষণীয় প্রজাতির মুরগি ‘আয়াম সেমানি’ (Ayam Cemani) বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। একে অনেকে ‘নিলয় সোনা’ বা কালো সোনার সাথে তুলনা করে থাকেন।
সম্পূর্ণ কালো হওয়ার নেপথ্যের বিজ্ঞান
এই মুরগিটির সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো এর গায়ের রঙ। বাইরের পালক থেকে শুরু করে পায়ের নখ, চঞ্চু, জিহ্বা, এমনকি হাড়, মাংস এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পর্যন্ত সবকিছুই কুচকুচে কালো। বিজ্ঞানের ভাষায় এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণ হলো ‘ফাইব্রোমেলানোসিস’ (Fibromelanosis) নামক একটি জিনগত রূপান্তর। এই বিশেষ জিনের প্রভাবে মুরগিটির শরীরে অতিরিক্ত মেলানিন পিগমেন্ট তৈরি হয়, যা একে সম্পূর্ণ কালো করে তোলে।
চড়া দামের কারণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে একটি খাঁটি আয়াম সেমানি মুরগির দাম ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। এই উচ্চ মূল্যের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। প্রথমত, এই মুরগি বছরে মাত্র ৬০ থেকে ৮০টি ডিম পাড়ে। দ্বিতীয়ত, এদের বাচ্চাগুলো বেশ নাজুক প্রকৃতির হয়, ফলে এদের বড় করে তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। মূলত বিলাসবহুল হোটেল, শৌখিন প্রাণী সংগ্রাহক এবং বিশেষ কিছু প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজনে এই মুরগির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ভারতের গর্ব কড়কনাথ
আন্তর্জাতিক বাজারে আয়াম সেমানির মতো দাপট দেখাচ্ছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঝাবুওয়া অঞ্চলের বিখ্যাত ‘কড়কনাথ’ মুরগি। এটিও আয়াম সেমানির মতোই কালো রঙের হয়, তবে এর হাড় ও রক্ত সেমানির মতো অতটা গাঢ় কালো নয়। সাধারণ মুরগির তুলনায় কড়কনাথের চাহিদা ও দাম উভয়ই অনেক বেশি হওয়ায় এটি বর্তমানে ভারতীয় পোলট্রি চাষিদের জন্য আয়ের একটি অন্যতম বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মুরগির চেয়ে দশ গুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় এই প্রজাতির চাষ এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।