“শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে!” ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে হেমন্ত সোরেনকে তোপ নিজ জোটসঙ্গী রাহুলের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ($JPSC$) এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশন ($JSSC$) পরীক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি। আর এই ইস্যুতে নিজের জোট সরকারের বিরুদ্ধেই সরব হলো কংগ্রেস। ঝাড়খণ্ডে জেএমএম ($JMM$) এবং কংগ্রেসের যৌথ সরকার থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোজা ভাষায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকার যারই হোক না কেন—পরীক্ষার্থীদের কথা শুনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা জরুরি।
“শিক্ষাব্যবস্থা এখন ব্যয়বহুল ও নিপীড়নমূলক”
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের একটি ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে এক অনুরাগী ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করলে রাহুল গান্ধী বলেন:
“দেশে চলা ছাত্র আন্দোলনগুলো আসলে এই ঘুণে ধরা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধেই লড়াই। কোটা, দেরাদুন বা এলাহাবাদ—সব জায়গাতেই আমি এক কথা বলেছি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে; এটি এখন অত্যধিক ব্যয়বহুল এবং নিপীড়নমূলক। কেন্দ্র, ঝাড়খণ্ড কিংবা কংগ্রেসশাসিত রাজ্য—সব সরকারেরই উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে অবিলম্বে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করা।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট করেন, সরকারে জোটসঙ্গী থাকুক বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—কংগ্রেস সবসময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে। এ নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
১৩ দিন ধরে আমরণ অনশন, রাজপথে পরীক্ষার্থীরা
‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে গত ২৫ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা ইতিমধ্যে ১৩ দিনে পা দিয়েছে। বর্তমানে ৬ জন আন্দোলনকারী আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো হলো:
- ১৪তম ঝাড়খণ্ড $PSC$ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করা।
- $CBI$ অথবা রাজ্যের বাইরের কোনো অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারককে দিয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করানো।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও কংগ্রেসের স্মারকলিপি
ইতিমধ্যেই এআইসিসি-র ঝাড়খণ্ড ইনচার্জ কে রাজু ও রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে দেখা করে ছাত্রদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি মন্ত্রীপর্যায়ের কমিটি গঠন করায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি উদ্বেগকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পুরো সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।