লোন রিকভারি এজেন্টদের অত্যাচার রুখতে RBI-এর কড়া বার্তা, অপমান বা হেনস্থা করলেই দিতে হবে ক্ষতিপূরণ

বিশেষ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইএমআই (EMI) দিতে কয়েক দিন দেরি হলেই অপরিচিত নম্বর থেকে হুমকি ফোন, পরিবারের লোক বা সহকর্মীদের কাছে কল করে অপমান—এমন অভিজ্ঞতা বহু ঋণগ্রহীতারই রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রিকভারি এজেন্টদের এই মানসিক অত্যাচারে বহু মানুষ চরম পথ বেছে নিতেও বাধ্য হয়েছেন। এবার এই ধরনের অনৈতিক ও নির্মম আচরণ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। সব বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিকভারি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়মাবলী কার্যকর হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পাওনা টাকা আদায়ের নামে ঋণগ্রহীতার আত্মসম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা আইনি অধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।
নতুন নিয়মে যা যা করতে পারবে না রিকভারি এজেন্টরা:
- হেনস্থা ও গালিগালাজ নিষেধ: হুমকি দেওয়া, মানসিক চাপ তৈরি করা বা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নয়: ঋণগ্রহীতার ছবি, কল রেকর্ড বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে অপপ্রচার করা যাবে না।
- পরিবার ও প্রতিবেশীকে জানানো নিষেধ: ঋণখেলাপির খবর পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশী বা সহকর্মীদের জানিয়ে মানহানি করা যাবে না।
যোগাযোগের সময় ও স্থান সংক্রান্ত নিয়ম:
- নির্দিষ্ট সময়: এজেন্টরা কেবল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবেন।
- বিপদকালীন সময়ে ছাড়: পরিবারে কারও মৃত্যু, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানের সময় ঋণগ্রহীতাকে বিরক্ত করা যাবে না।
- দেখা করার জায়গা: ঋণগ্রহীতা যে স্থান ও সময় নির্ধারণ করবেন, এজেন্টকে সেখানেই দেখা করতে হবে। আগাম না জানিয়ে হুট করে বাড়ি বা কর্মস্থলে যাওয়া যাবে না।
ব্যাঙ্কের দায়বদ্ধতা ও কল রেকর্ডিং:
- দায় এড়াতে পারবে না ব্যাঙ্ক: এজেন্ট অসদাচরণ করলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককেই নিতে হবে।
- কল রেকর্ড বাধ্যতামূলক: ঋণগ্রহীতার সঙ্গে সমস্ত ফোনালাপ রেকর্ড করতে হবে এবং তা অন্তত ৬ মাস সংরক্ষণ করতে হবে। ফোন শুরুতেই রেকর্ডিংয়ের কথা জানাতে হবে।
- দক্ষ এজেন্ট নিয়োগ: ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স (IIBF) থেকে প্রশিক্ষিত এজেন্টদেরই কেবল নিয়োগ করা যাবে।
- ক্ষতিপূরণের সুবিধা: রিকভারি নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনও গ্রাহককে মানসিক বা আর্থিক ক্ষতি করলে, গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে ব্যাঙ্ক।
মোদ্দা কথা, ব্যাঙ্ক পাওনা টাকা আদায় করতে পারবে, কিন্তু গ্রাহকের সম্মান বা ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে নয়—এটিই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্পষ্ট বার্তা।