উৎসবে মর্মান্তিক পরিণতি! ভাইয়ের গুলিতে মৃত বৌদি, দেহ লুকোতে ডিপ ফ্রিজারের আশ্রয়!

মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিল উৎসবের আনন্দ, ফ্রিজারে লুকানো হলো গৃহবধূর মরদেহ
মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ‘হর্ষ ফায়ারিং’ বা আনন্দ প্রকাশের জন্য চালানো গুলিতে প্রাণ হারালেন এক তরুণী। থাটিপুর থানা এলাকার তৃপ্তি নগরের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ও পরিবারের সদস্যরা প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহটিকে একটি ডিপ ফ্রিজারে লুকিয়ে রেখেছিল, যা স্থানীয়দের সন্দেহের উদ্রেক করে।
খেলার ছলে প্রাণহানি
অনুষ্ঠান চলাকালীন গৃহবধূ জ্যোতি কুশওয়াহর দেবর যোগেশ কুশওয়াহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গালিতে গুলি ছুড়ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যোগেশ বন্দুকের ভেতর গুলি আছে কিনা তা পরীক্ষা না করেই মজা করার উদ্দেশ্যে জ্যোতিকে লক্ষ্য করে ট্রিগার টিপে দেন। গুলিটি সরাসরি জ্যোতির শরীরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযুক্তের ভাষ্যমতে, বন্দুকটি যে লোড করা ছিল তা তিনি জানতেন না।
প্রমাণ লোপাটের অপচেষ্টা
জ্যোতির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামলাতে স্বামী মনোজ কুশওয়াহ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অপরাধ গোপন করার ছক কষে। তারা জ্যোতির বাপের বাড়ির লোকজনকে জানায় যে, সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মৃতদেহটিকে একটি ডিপ ফ্রিজারে ঢুকিয়ে রাখা হয়, যাতে দ্রুত দেহটি পচন না ধরে এবং রাতের অন্ধকারে গোপনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়।
কিন্তু বাড়িতে হঠাৎ এমন গভীর রাতে ডিপ ফ্রিজার আনা দেখে প্রতিবেশীদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজার খুলে জ্যোতির দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর দেবর যোগেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জ্যোতির পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের দায়ে মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছে। উৎসবের দিনে এমন অবহেলা ও অপরাধ ঢাকবার মরিয়া প্রচেষ্টা এলাকাটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।