স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের জের! প্রেমিকের ছদ্মবেশে ডেকে এনে যুবককে খুন, চাঞ্চল্য

প্রেমিকার ছদ্মবেশে ডেকে নিয়ে যুবককে খুন, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
বিহারের বগাহা পুলিশ জেলায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, পুলিশের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবৈধ সম্পর্কের জেরে স্বামীকে সরিয়ে দিতেই এই নৃশংস অপরাধের ছক কষেছিলেন এক ব্যক্তি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ মে, যখন শেরাবাজার এলাকার একটি আম বাগান থেকে ২৩ বছর বয়সী রঙ্গিলা যাদব নামক এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রযুক্তিগত তদন্ত ও কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করে পুলিশ রাজন যাদব নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দীর্ঘ জেরার মুখে অবশেষে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে।
পরিকল্পিত ফাঁদ ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রঙ্গিলার সাথে রাজন যাদবের স্ত্রীর বিবাহপূর্ব সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও তাদের এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছায়। বারবার সতর্ক করার পরেও রঙ্গিলা তার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে রাজন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজন তার স্ত্রীর ফোন ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর বদলে রঙ্গিলাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাগানে ডেকে পাঠায়। যুবকটি প্রেমের টানে সেখানে পৌঁছাতেই রাজন ও তার সহযোগী সুধীর মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। খুনের ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা নিহতের শরীরে থাকা তোয়ালে দিয়েই তাকে গাছে ঝুলিয়ে দেয়। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অপর সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ফরেনসিক টিম ও ডগ স্কোয়াডের তৎপরতায় এই ক্লু-লেস মামলার জট দ্রুত খুলতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।